বাঁকুড়া, রেশমি ব্যানার্জি: একেবারেই সাদামাটা পরিবারের ছেলে শেখ আবদুল হাফিজ। বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিশুন্ডা এলাকার বাসিন্দা তিনি। ককরোজ জনতা পার্টির সমর্থক তিনি। সম্প্রতি দিল্লির আন্দোলনেও গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ বাঁকুড়া ফেরার পর থেকেই বিজেপি কর্মীরা তাকে হুমকি দিচ্ছিল বিভিন্নভাবে। নিজের এলাকার এরপর করিশুন্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন হাফিজ।
প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানোর প্রস্তুতি হিসেবে স্কুলের পরিস্থিতির ভিডিও করেন তিনি। আর তার জন্যই হল করুন পরিণতি। এর দাম দিতে হলো বাবার জীবন দিয়ে। মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন হাফিজ। ঠিক তার পরদিন রাজীব চকে তাকে আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের মুখেও পড়তে হয়েছিল তাকে। ২৭ জুলাই গ্রামে ফেরার পর থেকেই বিজেপির পক্ষ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর একদল দুষ্কৃতী তার বাড়িতে চড়াও হয়।
হাফিজকে মারধরের পাশাপাশি তার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও মুছে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হন তার বাবা মাফিক। পুলিশি সহযোগিতায় তাকে ইন্দাস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই সন্ধ্যায় মাফিকের মৃত্যু হয়। আর তারপরেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে ঘটনায় কড়া আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, 'অন্যায় করলে কাউকে ছাড়া হবে না। পুলিশ তদন্ত করে দেখছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া হয়নি পদক্ষেপ নেওয়া হবে'।
সোমবার হাফিজের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে করিশুন্ডায় পৌঁছন তৃণমূল নেতৃত্ব। সেখানেই এক তৃণমূল নেতার ফোন থেকে হাফিজের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসের পর শেখ আবদুল হাফিজ বলেন, 'উনি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তারপরেও তিনি আমাদেরকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। উনি আগেও সকলের পাশে দাঁড়াতেন এখনো দাঁড়াচ্ছেন। উনি যে ফোন করেছেন এটাই আমার কাছে অনেক বড়।'
তৃণমূলের পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সিপিএমও। দলের নেতাকর্মীরা নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা রাজ্যজুড়ে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।