পড়াশোনা নিয়ে বাবা-মায়ের বকুনি। তার জেরেই অভিমান করে স্কুলে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিল বর্ধমানের দুই কিশোরী। প্রায় এক মাস পর রাজস্থান থেকে তাদের উদ্ধার করল বর্ধমান জিআরপি। রবিবার দুই কিশোরীকে বর্ধমানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেমারির সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা ওই দুই কিশোরী বর্ধমানের রামাশিস হিন্দি হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। গত ১ জুলাই স্কুলে যাওয়ার জন্য তারা মেমারি থেকে ট্রেনে উঠেছিল। ওই দিন আরও তিন ছাত্রী তাদের সঙ্গে ছিল। তিন জন স্কুলে পৌঁছলেও ওই দুই কিশোরী স্কুলে যায়নি। বর্ধমান স্টেশনে তাদের শেষবার দেখা যায়।
বেশ কয়েক দিন ধরে মেয়েদের খোঁজ না মেলায় পরিবারের তরফে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, বর্ধমান স্টেশনের শৌচালয়ে গিয়ে দুই কিশোরী স্কুলের পোশাক বদলে সাধারণ পোশাক পরে নেয়। এরপর তারা ফের ট্রেনে চেপে মেমারির দিকে চলে যায়।
তাদের কাছে থাকা রুপোর গয়না বিক্রি করে একটি পুরনো মোবাইল ফোন কেনে তারা। এরপর ট্রেনে প্রথমে বিহারে এবং সেখান থেকে রাজস্থানে পৌঁছয়। সেখানে কাজ করার উদ্দেশ্যে একটি জায়গা ভাড়া নেয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, এক যুবক তাদের রাজস্থানে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সাহায্য করেছিল। বর্তমানে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে গত শুক্রবার রাজস্থানের ফুলবাগ এলাকা থেকে দুই কিশোরীর সন্ধান পায় পুলিশ। জানা যায়, একটি কারখানার গোডাউন ভাড়া নিয়ে তারা সেখানে থাকছিল। উদ্ধার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, বাড়িতে বাবা-মায়ের বকুনি খেয়েই তারা বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তবে দুই কিশোরী কোনও পাচারচক্রের খপ্পরে পড়েছিল কি না, নাকি শুধুই অভিমানের কারণে বাড়ি ছেড়েছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, নিখোঁজ দুই কিশোরীর সন্ধান চেয়ে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে আবেদন জানিয়েছিলেন মেমারির বিজেপি বিধায়ক মানব গুহ। উদ্ধারের খবর পেয়ে রবিবার তিনিও বর্ধমানে আসেন। তাঁর দাবি, প্রাথমিকভাবে প্রেম বা অপহরণের কোনও ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। দুই কিশোরী সমাজমাধ্যমে বেশি সময় কাটাত এবং পড়াশোনা নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে বকাবকি হয়েছিল বলেই তারা বাড়ি ছেড়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।