গঙ্গার দুই পারের দুই বড় শিল্পাঞ্চল—উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর এবং হুগলি জেলাকে সরাসরি সড়কপথে যুক্ত করতে একটি নতুন সেতুর দীর্ঘদিনের দাবি এবার বিধানসভার অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হলো। বিষয়টি নিয়ে পরিষদীয় কক্ষে সরব হন বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মহলের একাংশের মতে, এই সেতু নির্মিত হলে দুই জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্রে এক আমূল বদল আসতে পারে।
বর্তমানে গঙ্গার উত্তর দিকে কল্যাণী ও বাঁশবেড়িয়ার সংযোগকারী দ্বিতীয় ঈশ্বর গুপ্ত সেতু এবং দক্ষিণ দিকে দক্ষিণেশ্বর ও বালির সংযোগকারী বিবেকানন্দ ও নিবেদিতা সেতু রয়েছে। তবে এই দুই প্রান্তের মাঝের এক বিস্তীর্ণ অংশে গঙ্গার ওপর কোনো সড়ক সেতু না থাকায় পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের শূন্যতা রয়ে গেছে। যদিও নৈহাটি ও ব্যান্ডেলের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী জুবিলি ব্রিজ অবস্থিত, তবে সেটি সম্পূর্ণভাবে রেল চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়; সাধারণ বা পণ্যবাহী সড়ক পরিবহনে তা কোনো কাজে আসে না।
ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও ভারী পণ্যবাহী গাড়িকে গঙ্গার এক পার থেকে অন্য পারে যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় যেমন অতিরিক্ত নষ্ট হচ্ছে, তেমনই পরিবহন খরচও এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সরাসরি সংযোগ না থাকার ফলে দুই পারের শিল্পতালুকগুলোর স্বাভাবিক গতি ও বাণিজ্যিক আদান-প্রদান ব্যাহত হচ্ছে।
বিধানসভায় এই প্রস্তাব ওঠার পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন দুই পাড়ের মানুষ। বিধানসভাতে এই প্রসঙ্গে জোরাল দাবি তোলে ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। নতুন সড়ক সেতুটি তৈরি হলে ব্যারাকপুর ও হুগলির শিল্প এলাকার দূরত্ব ও যাতায়াতের সময় অনেকাংশে কমে যাবে। এতে শুধুমাত্র পণ্য পরিবহনই দ্রুত হবে না, বরং সামগ্রিক শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।