কলকাতা: রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করতে একাধিক বড় উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং। গঙ্গাবক্ষে ওয়াটার ট্যাক্সি চালুর পরিকল্পনার পাশাপাশি দুর্গাপুজোর আগেই ৫০০ নতুন সরকারি বাস রাস্তায় নামানোর কথাও জানালেন তিনি। শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার গোলঘর পার্কে উলটো রথ উপলক্ষে খুঁটিপুজোয় যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘোষণা করেন মন্ত্রী।
তিনি জানান, সড়কপথে ক্রমবর্ধমান যানজট কমাতে এবং যাত্রীদের দ্রুত ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুবিধা দিতে গঙ্গাবক্ষে জলপথকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রথম পর্যায়ে বারাকপুর থেকে বাবুঘাট এবং বাবুঘাট থেকে মেটিয়াবুরুজ পর্যন্ত ওয়াটার ট্যাক্সি পরিষেবা চালুর ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে গঙ্গার তীরবর্তী আরও একাধিক এলাকার সঙ্গে এই পরিষেবার সংযোগ স্থাপন করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
পরিবহনমন্ত্রী জানান, শুধু ওয়াটার ট্যাক্সিই নয়, গঙ্গাবক্ষে দূরপাল্লার আধুনিক ভেসেল পরিষেবাও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। জলপথের ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন সড়কের ওপর চাপ কমবে, তেমনই পরিবেশ দূষণও হ্রাস পাবে। এই কারণেই রাজ্য সরকার জলপথকে ভবিষ্যতের গণপরিবহণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে।
অর্জুন সিং আরও বলেন, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ৫০০ সরকারি বাস চালু করা হবে। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে আরও প্রায় এক হাজার নতুন সরকারি বাস পরিষেবায় যুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। শহর ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বাস পরিষেবা আরও শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গাবক্ষে চালু হতে চলা ওয়াটার মেট্রো প্রকল্পে অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক হাইব্রিড বোট ব্যবহার করা হবে। বর্তমানে দেশের একমাত্র কোচিতেই এই ধরনের পরিষেবা চালু রয়েছে। একই প্রযুক্তি পশ্চিমবঙ্গেও আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব এই নৌযানগুলির মাধ্যমে দ্রুত ও নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়াও বিশ্বব্যাঙ্কের আর্থিক সহায়তায় গঙ্গার ঘাটগুলিকে আধুনিকীকরণের কাজও চলছে। প্রায় ৫০টি জেটি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩টি ই-ভেসেল নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আরও ২২টি নতুন ভেসেলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেগুলি পর্যায়ক্রমে পরিষেবায় যুক্ত হবে। স্মার্টকার্ডভিত্তিক প্রবেশ ব্যবস্থা, উন্নত যাত্রী পরিষেবা এবং আধুনিক অবকাঠামোর মাধ্যমে রাজ্যের জলপরিবহণ ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী।