২০১৪ সালের খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের উপর বিশেষ জোর দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই নিয়মের প্রয়োগ অনেকটাই শিথিল হয়েছে বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে বর্ধমান শহরে জঙ্গি সন্দেহে এক ব্যক্তির আস্তানার হদিশ মেলায় ফের প্রশ্ন উঠেছে বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিয়ে।
২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তদন্তে উঠে আসে, ওই বাড়িটি জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সদস্যরা ব্যবহার করছিল। ঘটনার পর বর্ধমান শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার যাবতীয় তথ্য পুলিশকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
তবে অভিযোগ, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না। বাইরে থেকে আসা ব্যক্তিরা দালালের মাধ্যমে সহজেই বাড়ি বা ফ্ল্যাট ভাড়া পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে বাড়ির মালিক বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ভাড়াটিয়ার পরিচয় সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য থাকছে না।
সম্প্রতি খাগড়াগড় থেকে প্রায় দু’কিলোমিটার দূরে রেনেসাঁ টাউনশিপে হামিম মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির থাকার বিষয়টি সামনে এসেছে। অভিযোগ, সেখানে একটি ফ্ল্যাটে তিনি থাকতেন। ফ্ল্যাটটির মালিক অন্য রাজ্যে থাকায় দালালের মাধ্যমে সেটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে কাকে এবং কী তথ্যের ভিত্তিতে ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়ির মালিকদের আরও সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী তথা বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। রবিবার তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পরিচয় ও নথি যাচাই না করে কাউকে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি শুধু বর্ধমানের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, দেশের নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। বর্তমানে ঘটনার তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। প্রয়োজনে তদন্তভার জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-এর হাতে যেতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
খাগড়াগড়ের ঘটনার এক দশকেরও বেশি সময় পর ফের একই ধরনের প্রশ্ন ওঠায় বাড়ি ভাড়ার নিয়ম কার্যকর করা এবং ভাড়াটিয়াদের পরিচয় যাচাই আরও কঠোর করার দাবি উঠছে। প্রশাসনের নজরদারি ও বাড়ির মালিকদের সচেতনতা দুই দিকেই জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।