নিউজ ডেস্ক: মৃত্যু কি কখনও আগাম বার্তা দিয়ে আসে? কোনও মানুষ কি নিজের মৃত্যুর দৃশ্য আগেই দেখতে পারেন? বাংলা সাহিত্যের পাতায় এমনই এক শিহরণ জাগানো রহস্যের নাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘পথের পাঁচালী’, ‘অপরাজিত’-এর মতো কালজয়ী সৃষ্টির রচয়িতা এই সাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘিরে আজও আলোচনায় উঠে আসে এক অদ্ভুত কাহিনি। কথিত আছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগেই নাকি নিজেরই মৃতদেহ দেখেছিলেন তিনি! শুধু তাই নয়, তাঁর মৃত্যুর মাত্র সাত দিনের মাথায় ছোট ভাইয়ের রহস্যমৃত্যু যেন গোটা ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছিল।
১৮৪৯ সালে রহস্যময় পরিস্থিতিতে মৃত্যু হয়েছিল এডগার অ্যালান পো-র। তাঁর মৃত্যুরহস্য নিয়ে আজও গবেষণা চলছে। অথচ তাঁর মৃত্যুর ১০১ বছর পর, ১৯৫০ সালের ১ নভেম্বর, প্রয়াত হন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যেও লুকিয়ে ছিল বহু অজানা রহস্য। কথিত আছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে একদিন অরণ্যে ঘুরতে গিয়ে বিভূতিভূষণ একটি কাপড়ে মোড়ানো মৃতদেহ দেখতে পান। কৌতূহলবশত কাপড় সরাতেই বিস্ময়ে শিউরে ওঠেন তিনি। কারণ, সেই মৃতদেহটি আর কারও নয়, স্বয়ং তাঁর নিজের! বস্তুত, এর আগেও নাকি অবচেতনে নিজের মৃত্যুর দৃশ্য দেখতেন তিনি। কিন্তু এবার যেন সেই অশুভ আশঙ্কা বাস্তবের রূপ নিল। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বিভূতিভূষণ। আর কিছুদিন পরেই চিরবিদায় নেন এই কালজয়ী কথাসাহিত্যিক।
কিন্তু রহস্যের সেখানেই শেষ হয়নি। বিভূতিভূষণের মৃত্যুর সাত দিন পর, সুবর্ণরেখার তীরে পঞ্চপাণ্ডব শ্মশানের কিছুটা দূরে সন্ধ্যাবেলায় আবিষ্কৃত হয় তাঁর ছোট ভাই, ডাঃ নুটুবিহারি বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিথর দেহ। মৃতদেহের পাশে পড়েছিল কার্বলিক অ্যাসিডের একটি শূন্য শিশি। পরপর দুই ভাইয়ের মৃত্যু। একজনের মৃত্যু ঘিরে অদ্ভুত এক পূর্বাভাস, অন্যজনের মৃত্যুর পাশে পড়ে থাকা একটি শূন্য শিশি।
কী এমন দেখেছিলেন বিভূতিভূষণ, যা তাঁকে এতটা ভীত করে তুলেছিল? নিজের মৃত্যুর সেই দৃশ্য কি নিছকই কল্পনা, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও কোনও অজানা সত্য?
একদিকে নিজের মৃত্যুর পূর্বাভাস দেখার অদ্ভুত কাহিনি, অন্যদিকে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ছোট ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু—সব মিলিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবনাবসান যেন তাঁর লেখা কোনও রহস্য-উপন্যাসেরই পাতা। তবে এই ঘটনাগুলির কতটা বাস্তব, আর কতটাই বা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়া কাহিনি, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অরণ্যের নিস্তব্ধতায় সত্যিই কি নিজের মৃত্যুর প্রতিচ্ছবি দেখেছিলেন বিভূতিভূষণ, নাকি সময়ের সঙ্গে সেই স্মৃতির সঙ্গে মিশে গিয়েছে কল্পনা? উত্তর আজও অধরা। আর সেই অমীমাংসিত রহস্যই তাঁর মৃত্যুর এত বছর পরেও পাঠক ও গবেষকদের মনে জাগিয়ে রাখে অদম্য কৌতূহল।




