দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে ককরোচ জনতা পার্টি, গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে ধর্ণামঞ্চ। এর মধ্যে এবার বড় পদক্ষেপ নিল বিহার ও অসম রাজ্যের সরকার। জানা গিয়েছে, এই দুই রাজ্যে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিহিংসামূলক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও সরকারি আশ্বাস মিলেছে।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার সময় আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হলেও একাধিক রাজ্যে এখনও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। সংগঠনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, শর্ত পূরণ না হলে ফের আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবে তারা।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিহার সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ছ'টার আগে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে প্রশ্নফাঁস-বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। একইসঙ্গে ওই সময়ের আগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার বা আটক হওয়া সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।একইভাবে অসম সরকারের তরফেও জানানো হয়েছে যে, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এই দুই রাজ্যেই ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে বহু পড়ুয়া রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়মের ফলে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেই আন্দোলনের জেরে বহু পড়ুয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এই ইস্যুতে বিরোধী দলগুলিও সরকারের উপর চাপ বাড়িয়েছিল। তবে জনরোষ রুখতে শেষমেশ বড় পদক্ষেপ নিয়ে আন্দোলনের আঁচ স্তিমিত করল প্রশাসন।