নিউজ ডেস্ক: উৎসবের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হল শোকে! ভোজসভায় যোগ দিতে গঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হল যাত্রীবোঝাই নৌকা। মাঝনদীতে উল্টে গেল নৌকা। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। মৃতদের মধ্যে একাধিক শিশুও রয়েছে। মঙ্গলবার বিহারের বৈশালী জেলার রাঘোপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ভোজসভায় যাওয়ার পথেই বিপত্তি
নৌকাটিতে ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু ছিল। একটি ভোজসভায় যোগ দিতে নৌকায় করে যাচ্ছিলেন তাঁরা। সেই সময় আচমকাই গঙ্গায় নৌকাটি উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নদীতে পড়ে যান যাত্রীরা। প্রাণ বাঁচাতে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। দুর্ঘটনার পরেই নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। উদ্ধারকাজে নামানো হয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে হাত লাগান। নদীতে এখনও নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
https://x.com/9415st/status/2110208518892748823?s=20
মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে মৃতদের পরিবারপিছু ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীও ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারপিছু ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি। শোকবার্তায় এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি যেন শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলি পায়, সেই কামনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শোকপ্রকাশ তেজস্বী যাদব ও উপরাষ্ট্রপতির
বৈশালীর রাঘোপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবও। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসন ও আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। উদ্ধারকাজ, ত্রাণ এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা দ্রুত করার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনও এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি নিখোঁজদের নিরাপত্তা কামনা করেছেন।
উদ্ধারকাজে নজর প্রশাসনের
একটি আনন্দের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে এতগুলি প্রাণহানির ঘটনায় শোকস্তব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে একাধিক শিশুর মৃত্যুর খবর পরিস্থিতিকে আরও মর্মান্তিক করে তুলেছে। প্রশাসনের তরফে উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। এখনও নিখোঁজ কেউ রয়েছেন কি না, সেই বিষয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
কীভাবে নৌকাটি উল্টে গেল, নৌকায় নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি যাত্রী ছিলেন কি না এবং নিরাপত্তার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, সেই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত ও প্রশাসনিক তথ্য সামনে এলেই দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
