কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরনিগমের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগ নিতে চলেছে বিজেপি। এবার দলের কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। দলীয় কার্যালয়ে ড্রপবক্স রাখা থাকবে। সেখানে বিজেপি-র লোকজনই নন শুধু, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও পছন্দের নাম জমা দিতে পারবেন। নিজে প্রার্থী হতে চাইলে, তাও জানানো যাবে।
রবিবার কলকাতা পুরনিগম নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন সুকান্ত মজুমদার। সেখানে তিনি জানান, 'বিজেপির নেতৃত্বে নতুন কলকাতা তৈরি হবে। স্বচ্ছ কলকাতা পুরনিগম তৈরি করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যেখানে কোনও প্রোমোটাররাজ বা ডেভেলপাররাজ থাকবে না। এই কাজ করতে সমাজের প্রথিতযশা, কৃতী ও যুবসমাজের থেকে সাহায্য চান সুকান্ত। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সমাজসেবী, সাংবাদিক, আইনজীবীদের কাছে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।'
বাম ও তৃণমূল কংগ্রেসকেও নিশানা করে সুকান্ত বলেন, '৪৯ বছর মানুষ পরিষেবা পাননি। স্পিট ব্রেকার সরে যেতেই কাজে গতি এসেছে। পাশাপাশি পুরনিগমের পরিচালনায় প্রোমোটার ও ডেভেলপারদের প্রভাব বন্ধ করার কথাও বলেন তিনি। নির্বাচনে লড়াইয়ের ইচ্ছা থাকলে ড্রপ বক্সে জানান। আমাদের বিশ্বাস কলকাতার মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করবে। দেবীপক্ষকেই এই ড্রপ বক্স উদ্বোধনের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। আমরা নতুন কলকাতা তৈরি করব।'
জানা গিয়েছে, কলকাতার ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের বিজেপির পুরনো কার্যালয়ে রাখা হবে ড্রপবক্স। সোমবার থেকে সেখানে নিজেদের নাম ও বায়োডাটা জমা দিতে পারবেন আগ্রহীরা। সাংবাদিক বৈঠক করে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বিজেপি কর্মী ছাড়াও চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সমাজসেবীর মতো বিশিষ্ট ও প্রোথিতযশা নাগরিকরা যাতে সরাসরি রাজনীতিতে অংশ নেন, তার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পুজো মিটলেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভায় ভোট। কলকাতা পুরভোটে বিশেষ দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আগামী নভেম্বরেই হতে পারে কলকাতা পুরসভার নির্বাচন এবং আগামী সাত ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বোর্ড গঠন করার বিষয়ে একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেবে বিজেপি। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে প্রস্তুতি। তার আগে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক কৌশল নিতে চাইছে বিজেপি। তবে শেষ পর্যন্ত কারা টিকিট পাবেন, তা নির্ভর করবে দলের নির্ধারিত মাপকাঠি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।
