নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম সভা। আজ, শনিবার হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠে জনসভা করেন তিনি। সেই সভার আগেই শুরু হয় উত্তেজনা। শ্রীরামপুরে সভাস্থলের কাছেই জমায়েত, দেওয়া হল স্লোগান। কার্যত উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে পুলিশ গিয়ে জমায়েত সরায়। এদিন মঞ্চে উঠে বিজেপিকে কার্যত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি আসার আগেই খবর পেয়েছি উত্তরপাড়া, জিটি রোড জ্যাম করে রেখেছে। এই এলাকা থেকে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে গ্রেফতার করেছে। বিজেপির এখন হানিমুন পিরিয়ড নয় মানিমুন পিরিয়ড চলছে। আমায় বাড়ি থেকে বেরতে দেয় না। কল্যাণকে ধন্যবাদ। কোর্টে গিয়ে মাননীয় বিচারপতির অনুমতি নিয়ে এসেছেন। কেন অন্য দলের স্বাধীনতা থাকবে না সভা করার। মনে রাখবেন দিল্লি কিন্তু টলমল। মনে রাখবেন ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। পুলিশকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি সরকার। দিল্লি কিন্তু টলমল, পাপ বাপকেও ছাড়েনা।'
এরপরেই এসআইআর নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, 'ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে প্রচুর মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। সীমা খান্না AI দিয়ে নাম বাদ দিয়েছে। বস্তায় করে করে ৭ লক্ষ নাম ডিলিট করেছে। বাংলা থেকে মোট ৯২ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে। ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, যাঁরা অন্যায় করছে তাঁদের নাম রেকর্ড আছে। বাকি অন্যায়কারীদের ধরব। ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যতদিন না যাবে, আমাদের আন্দোলন চলবে।'
এদিন পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তিনি বলেন, 'সব থেকে বেশি অন্যায় করছে পুলিশ। ওদের দোষ নয়। ওদের দিয়ে কাজ করাচ্ছে বিজেপি। মিষ্টির দোকান , বিরিয়ানির দোকানেও টাকা চাইছে। হিন্দু-মুসলিম সকলের উপর অত্যাচার করছে।' মমতা আরও বলেন, ‘নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে কেন গ্রেফতার করা হল? ভূমি আন্দোলনের সঙ্গে আমিও যুক্ত ছিলাম। আমরা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করেছিলাম ওর মেয়ে যে প্রশ্ন করেছে সেটা সত্যি। আমরা কিন্তু হারিনি। প্রথম দিন থেকে বলছি। আমাদের জোর করে হারানো হয়েছে। কাউন্টিং থেকে বুথ এজেন্ট সকলে মিলে এই করেছে। ইভিএম মেশিন হাইজ্যাক করেছে। মিডিয়াকে টাকা দিয়ে মিথ্যা খবর করেছে। সেটাও বেরিয়েছে। আস্তে আস্তে সব বেরিয়ে যাবে।’
