একুশে জুলাইয়ের শহিদ স্মরণ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখনও অব্যাহত। কালীঘাট তৃণমূলের মঞ্চ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন জায়গায় আটকে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তারই জবাবে বুধবার সকালে কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা তথা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "দিন পালটেছে। তাই আপনারা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমাদের সঙ্গে যা করেছেন, আমি কিছুই করিনি। চাইলে জামা-কাপড় খুলে রাস্তায় মারতে পারতাম। এখনও চাইলে পারি।" এখানেই থামেননি তিনি। আরও বলেন, "আগের দিলীপ আর এই দিলীপ এক নয়। সংযম দেখাচ্ছি, সেটা ভুলে যাবেন না।" তাঁর দাবি, বিজেপি কোনও কর্মীকে মারধর বা আটকানোর ঘটনা ঘটায়নি। বরং নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা আড়াল করতেই তৃণমূল এই ধরনের অভিযোগ করছে।
মঙ্গলবার একুশে জুলাই উপলক্ষে কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ স্মরণ সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলের কর্মী-সমর্থকদের কলকাতায় আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, বহু কর্মীকে পথে আটকে দেওয়ায় তাঁরা শহিদ স্মরণ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল সরকারের আমলে বিজেপি একাধিকবার অভিযোগ করেছিল যে, তাদের কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনাও সে সময় জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়েছিল।
রাজনৈতিক পালাবদলের পর এখন পরিস্থিতি উল্টো। বর্তমানে রাজ্যে ক্ষমতায় বিজেপি এবং বিরোধী আসনে তৃণমূল। সেই আবহেই একুশে জুলাইকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও উসকে দিয়েছে।