ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের বালোচিস্তানে ফের নিরাপত্তাবাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলার খবর সামনে এসেছে। এবার হামলার দায় স্বীকার করেছে বালোচিস্তান লিবারেশন ফ্রন্ট (BLF)-এর সদ্য গঠিত মহিলা শাখা ‘করিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশন’ বা ‘কাদ’। সংগঠনটির দাবি, বালোচিস্তানের কেচ জেলার তুরবাত শহরের কাছে পাকিস্তানি সেনার একটি কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স (QRF) কনভয়ে হামলায় নয় জন সেনা নিহত হয়েছেন।
BLF-এর দাবি অনুযায়ী, সোমবার পাহাড়ি এলাকায় ওই হামলার জন্য আগে থেকেই ফাঁদ পাতা হয়েছিল। সেনার কনভয় নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছতেই হামলা চালানো হয়। মঙ্গলবার সংগঠনটির মিডিয়া শাখা ‘আশব’ হামলার একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিয়োটিতে এক মহিলা কমান্ডারকে অভিযানের আগে যোদ্ধাদের নির্দেশ দিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছে BLF।
তবে হামলা ও হতাহতের এই দাবির স্বতন্ত্র সরকারি যাচাই এখনও সামনে আসেনি। পাকিস্তানি সেনার পক্ষ থেকেও এই প্রতিবেদনে উদ্ধৃত দাবির বিষয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়ার উল্লেখ নেই। ফলে নিহতের সংখ্যা এবং হামলার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে আপাতত BLF-এর দাবিই প্রধান সূত্র।
BLF জানিয়েছে, মহিলা যোদ্ধাদের পাশাপাশি পুরুষ যোদ্ধাদের একটি এলিট ইউনিটও অভিযানে সহায়তা করেছিল। সংগঠনটি নিজেদের তিন যোদ্ধার মৃত্যুর কথাও স্বীকার করেছে।
কে এই ‘কাদ’ ব্রিগেড?
বালোচিস্তানের স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র সংগঠন BLF চলতি সেপ্টেম্বরেই তাদের মহিলা শাখা ‘করিমা আর্মড অ্যাসল্ট ডিভিশন’-এর গঠনের কথা ঘোষণা করে। সংগঠনটির নামকরণ করা হয়েছে প্রয়াত বালোচ অধিকারকর্মী করিমা বালোচের স্মরণে। ২০২০ সালে কানাডায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে নানা অভিযোগ উঠলেও সেগুলির সবকটি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত নয়।
নতুন মহিলা ইউনিটের প্রথম বড় হামলার দাবি সামনে আসতেই বালোচিস্তানের চলমান সশস্ত্র সংঘাতের নতুন দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বালোচিস্তানে কেন বাড়ছে হামলা?
বালোচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বালোচ জাতীয়তাবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সশস্ত্র আন্দোলন চলছে। পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনী ও বিভিন্ন বিদ্রোহী সংগঠনের মধ্যে নিয়মিত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এর আগে বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)-র মাজিদ ব্রিগেডে মহিলা সদস্যদের অংশগ্রহণও আন্তর্জাতিক সংবাদে উঠে এসেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নুশকিতে পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে মহিলা আত্মঘাতী হামলাকারীদের ব্যবহারের দাবি নিয়েও খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
এদিকে বালোচিস্তানের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয়ও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। BLA ও BLF-সহ কয়েকটি সংগঠনের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলার ধরন ও মাত্রা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তুরবাতের এই হামলার পর এখন নজর থাকবে পাকিস্তানি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং BLF-এর মহিলা ইউনিটের কার্যকলাপের দিকে। তবে হামলায় ঠিক কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ কী, তা নিশ্চিত করতে আরও স্বাধীন ও সরকারি তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
