ঘাটাল: বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন থেকে বিদ্যাসাগরের জন্মভিটে বীরসিংহের উন্নয়ন, বুধবার ঘাটাল সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঘাটালের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি এলাকার পরিকাঠামো, শিক্ষা, পর্যটন, শিল্প এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির জেরে ঘাটাল ও চন্দ্রকোণার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শিলাবতী নদীর জলস্তর বৃদ্ধি এবং বাঁধ ভাঙার ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক রিপোর্টে উঠে এসেছে।
এদিন বন্যা পরিস্থিতি দেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ঘাটালের যে অংশে জল ঢুকেছে, তা তিনি পরিদর্শন করেছেন। এবার কীভাবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা যায়, সেই বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সেই সূত্রেই সামনে আসে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরে এই প্রকল্পের জন্য ১২০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের জন্য কেন্দ্রের তরফে ৫০ শতাংশ অর্থ দেওয়ার কথাও তিনি জানান।
ঘাটালের পাশাপাশি এদিন বিশেষ গুরুত্ব পায় বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ। এলাকার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বীরসিংহ পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তা সৌর আলোয় আলোকিত করার পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুধু রাস্তার আলো নয়, বিদ্যাসাগরের গ্রামে পর্যটকদের সুবিধার জন্য রাত্রিবাসের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি।
বীরসিংহে স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও একাধিক ঘোষণা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এলাকায় একটি পার্ক তৈরির জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হবে। পাশাপাশি কংক্রিটের রাস্তা তৈরির জন্য ৭৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দের কথাও জানান তিনি।
শিক্ষা নিয়েও এদিন সরব ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগের সরকারের ভুল নীতির কারণে রাজ্য শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছিল। এবার শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। বিশেষ করে বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিতে তাঁর শিক্ষাভাবনা এবং আদর্শকে সামনে রেখে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার বার্তা দেন তিনি। এদিন তিনি বলেন, ‘এপাং ওপাং ঝপাং’ না পড়ে বিদ্যাসাগরের বই পড়ার দিকে নজর দেওয়া উচিত।
বাল্যবিবাহ নিয়েও কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই ক্ষেত্রে রাজ্যের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক জায়গায় রয়েছে এবং আগামী দিনে বাল্যবিবাহ বন্ধে আরও পদক্ষেপ করা হবে।
শুধু ঘাটাল বা বীরসিংহ নয়, রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়েও এদিন বড় বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রাজ্যে একের পর এক শিল্প আসছে। এদিন কলকাতায় রিলায়েন্সের একটি বড় দল আসার কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলায় আরও শিল্প আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ টানতে জমি ও পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক উদ্যোগের কথা রাজ্য সরকার জানিয়েছে।
নেশামুক্ত বাংলার প্রসঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘নেশামুক্ত ভারত’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে রাজ্যেও অভিযান চলবে। নিষিদ্ধ নেশার সিরাপের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করার কথা জানান তিনি। গত সপ্তাহেই নিউ টাউনে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ কফ সিরাপ নষ্ট করার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে নেশামুক্ত বাংলাকে সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
সব মিলিয়ে ঘাটাল সফরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা, আলো, পর্যটন, শিক্ষা এবং শিল্প, একাধিক ক্ষেত্রকে সামনে রেখে উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ নজরে রইল ১২০০ কোটি টাকার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, যার বাস্তবায়ন ঘাটালের দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা কতটা কমাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
