নিউজ ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী Flydubai বিমানে হঠাৎ ‘হাইজ্যাক’ আতঙ্ক। মাঝ আকাশে পরপর জরুরি সংকেত পাঠানোর পর বিমানটির গতিপথ বদলে যায়। ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানও সতর্কতামূলকভাবে আকাশে ওঠে। কিন্তু পরে ইজরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, বিমানটি হাইজ্যাক হয়নি। ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে ঝামেলার জেরেই নাকি হাইজ্যাক-সঙ্কেত সক্রিয় হয়েছিল।
বুধবারের এই ঘটনায় Flydubai-এর দুবাই-তেল আভিভগামী বিমানটি সৌদি আরবের আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় প্রথমে 7700 জরুরি কোড পাঠায়। এই কোড সাধারণত বিমানে কোনও সাধারণ কিন্তু গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবহার করা হয়। এরপর অল্প সময়ের জন্য বিমানটি 7500 কোড পাঠায়। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে 7500 কোড ‘unlawful interference’ বা সম্ভাব্য বিমান অপহরণের সংকেত হিসেবে পরিচিত।
এই সংকেত পাওয়ার পরই ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলি বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান বিমানটির দিকে পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাটজও নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করেন।
এরপর বিমানটি তেল আভিভের দিকে না গিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানটি নিরাপদে নামার পর হাইজ্যাকের আশঙ্কা অনেকটাই দূর হয়। ইজরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, পুরো ঘটনাটি কোনও সন্ত্রাসী হামলা বা বিমান অপহরণের সঙ্গে যুক্ত নয়। বরং বিমানের দুই পাইলটের মধ্যে একটি altercation বা শারীরিক ঝামেলা থেকেই জরুরি সংকেত পাঠানো হয়ে থাকতে পারে।
তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা। পাইলটদের মধ্যে ঝামেলার তথ্যটি এখনও ইজরায়েলি নিরাপত্তা সূত্রের দাবি হিসেবে সামনে এসেছে; Flydubai বা সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তরফে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পাইলটদের ঝামেলাকেই 7500 সংকেতের নিশ্চিত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানে প্রায় ১৭৪-১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যাত্রীসংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন রিপোর্টে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে সৌদি আরবে অবতরণ করায় বড় কোনও দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, যে ঘটনায় প্রথমে আন্তর্জাতিক স্তরে বিমান হাইজ্যাকের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আপাতত ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে সেই আশঙ্কা নাকচ করা হচ্ছে। এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন, কেন 7500-এর মতো হাইজ্যাক-সংকেত পাঠানো হল এবং ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল? তার উত্তর মিলবে তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার পরই।
