নয়াদিল্লি , নিউজ ডেস্ক : টানা তিন ঘন্টা ধরে চলে এনডিএ জোটের বৈঠক। তারপরেই সকলে এক সুরে তীব্র ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করে। প্রত্যেকের মুখেই শোনা যায় একটাই কথা 'ভোট লুট'। বিজেপি ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে বলে অভিযোগ করলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (INC) জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।
দীর্ঘ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর দাবি, "ভোটের তথ্য লোপাট করা হয়েছে। এমনকি বিরোধীদের ভোট সংক্রান্ত তথ্য নিজেদের লোকেরাই অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।"
এই বৈঠকের পরেই সকলকে একত্রিত হয়ে লড়াই করার বার্তা দিয়েছেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের (INC) জাতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। ২ অক্টোবর ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি এবং ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে অভিযান কর্মসূচির কথাও জানান তিনি। ‘চুরির সরকার’ বসে আছে বলেও কটাক্ষ করেন খাড়গে। তবে বারে বারেই তাঁর মুখে উঠে আসে ভোট চুরির কথা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় এসে প্রথমে নোটবন্দি করেছে, পরে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পথে হেঁটেছে।
একই সুরে সুর মিলিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। (Mamta Banerjee) তাঁর অভিযোগ, "ইভিএম কারচুপি এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইভিএম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট চুরি করা হয়েছে।" নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে মমতা বলেন, "ভ্যানিশ কুমার যেভাবে ভোট লুট করেছে মানুষের অধিকার কেড়েছে অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত। ভ্যানিশ কুমার পদত্যাগ না করলে আন্দোলন আরও বড় আকার নেবে। আমরা গণতন্ত্র বাঁচাতে লড়াই করব। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে লড়াই চলবে"।
একই কথা বলেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। (Rahul Gandhi) তাঁর বক্তব্যেও উঠে আসে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আঘাতের অভিযোগ। রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) স্পষ্ট বার্তা, " নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আক্রমণ করেছেন। সংবিধানের উপরও আঘাত এসেছে। ভোট লুট হয়েছে সর্বত্র। সমস্ত বিরোধীরা ভোট লুটের কথা জানাচ্ছে। এর যোগ্য জবাব দেওয়া হবে"। এরই পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
টানা তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর বিরোধী শিবিরের বার্তা স্পষ্ট 'ভোট লুট'। আর এই অভিযোগকে সামনে রেখে এবার আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটতে চাইছে তারা। আগামীদিনে এই জোট রাজনৈতিক মহলে কতখানি প্রভাব ফেলবে সেটাই দেখার।
