স্পোর্টস ডেস্ক: ফুটবল খেলতে গিয়ে ভেঙেছিল পা। দীর্ঘ দিন থাকতে হয়েছিল মাঠের বাইরে। কিন্তু তাতেও দমে যায়নি সে। বরং চোট সারিয়ে মাঠে ফিরে স্বপ্নপূরণের লড়াইয়ে আরও দৃঢ় হয়েছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের তেঁতুলবাড়ির মেয়ে সুদীপ্তা মণ্ডল। আর সেই লড়াইয়েরই স্বীকৃতি মিলল জাতীয় মঞ্চে। অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে পেনাল্টি থেকে গোল করে বাংলাকে চ্যাম্পিয়ন করল সুদীপ্তা। শুক্রবার অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে ড. তালিমেরেন আও জুনিয়র গার্লস ন্যাশনাল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মণিপুরকে পেনাল্টিতে ৩-২ গোলে হারিয়ে খেতাব জেতে বাংলা। আর সেই জয়ের অন্যতম কারিগর সুদীপ্তা। এক সময় যে পায়ের চোট তাঁকে মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, সেই পায়েই এ বার সাফল্যের নতুন ইতিহাস লিখল সে।
রায়গঞ্জের হাতিয়া হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুদীপ্তার ফুটবলের প্রতি ভালবাসা ছোটবেলা থেকেই। বাবা সুবীর মণ্ডল নিজেও ফুটবল খেলতেন। বাবার খেলা দেখেই মেয়ের মধ্যে ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেই আগ্রহ থেকেই শুরু অনুশীলন। আর্থিক অনটন ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মেয়ের স্বপ্নপূরণে পাশে থেকেছেন বাবা। নিয়মিত অনুশীলনের জন্য উৎসাহ জুগিয়েছেন। কলকাতার কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে রাজ্যস্তরের ট্রায়ালে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়ে বাংলার অনূর্ধ্ব-১৬ মহিলা দলে জায়গা করে নেয় সুদীপ্তা। গোটা মালদহ জেলা থেকে এই দলে সুযোগ পাওয়া একমাত্র ফুটবলার সে। তবে জাতীয় স্তরে বাংলার জার্সি গায়ে মাঠে নামা তার কাছে নতুন নয়। এর আগে দু’বার অনূর্ধ্ব-১৪ বাংলা দলের হয়েও জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগ পেয়েছে সুদীপ্তা।
গত বছর ফুটবল খেলতে গিয়েই গুরুতর চোট পায় সুদীপ্তা। ভেঙে যায় পা। দীর্ঘ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। তবু তা সত্ত্বেও হার মানেনি সে। কঠোর পরিশ্রমের পর চোট কাটিয়ে ফের মাঠে ফেরে সুদীপ্তা। তার পরেই অনূর্ধ্ব-১৬ বাংলা দলে সুযোগ এবং জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে গোল। বুধবার বাড়ি ফিরতেই সুদীপ্তাকে ঘিরে উৎসবের আবহ তৈরি হয় হরিশ্চন্দ্রপুরে। ফুলের তোড়া ও মালা পরিয়ে তাকে সংবর্ধনা দেন হরিশ্চন্দ্রপুর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিনুল হক-সহ এলাকার বাসিন্দারা। সুদীপ্তার এই সাফল্যে খুশি পরিবার থেকে শুরু করে এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীরা। প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে তার এই সাফল্য এখন এলাকার কিশোরীদের কাছেও অনুপ্রেরণা।
প্রিয় ফুটবলার ব্রাজিলের তারকা নেইমার। তবে শুধু প্রিয় তারকার মতো ফুটবল খেলাই নয়, সুদীপ্তার নিজেরও রয়েছে বড় স্বপ্ন। এক দিন ভারতের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে চায় সে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে গোল করে বাংলাকে খেতাব এনে দেওয়া সেই স্বপ্নপূরণের পথেই বড় পদক্ষেপ। আপাতত সাফল্যের আনন্দে ভাসছে হরিশ্চন্দ্রপুরের তেঁতুলবাড়ি। আর সুদীপ্তার চোখ পরবর্তী লক্ষ্যে। তার সাফল্যে এলাকার আরও অনেক কিশোরী ফুটবলকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত হবে, এমনটাই আশা স্থানীয় ক্রীড়া মহলের।
