কলকাতা: পুরনো মদের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কোথাও লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, কোথাও আবার ব্যবসা বন্ধ হয়েছে দীর্ঘদিন আগে। সেই সব জায়গাতেই এ বার নতুন করে মদের ব্যবসার দরজা খুলতে পারে। খুচরো মদ বিক্রির লাইসেন্স দেওয়ার নিয়মে বড়সড় বদল আনল রাজ্য সরকার। সংশোধিত আবগারি বিধিতে পুরনো এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া মদের দোকানের জায়গাকে নির্দিষ্ট শর্তে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে আগে মদের ব্যবসা চলত এমন জায়গায় নতুন লাইসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল।
১৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা গেজেটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ আবগারি (নতুন সাইট নির্বাচন এবং খুচরো মদ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রির লাইসেন্স প্রদান) বিধি, ২০০৩-এ একাধিক সংশোধন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
নতুন বিধিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন পুরনো মদের দোকানের জায়গা নিয়ে। আগে যে জায়গায় বিদেশি মদ বিক্রির লাইসেন্স ছিল, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সেই জায়গাকে নতুন ধরনের খুচরো মদের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট আবেদন পাওয়ার পরে জেলা প্রশাসনের কালেক্টর জায়গাটি পরিদর্শন করবেন। প্রস্তাবিত সাইটটি বিধিনিষেধের আওতায় পড়ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। সব দিক থেকে সন্তুষ্ট হলে আবেদন পাঠানো হবে আবগারি কমিশনারের কাছে। কমিশনারের অনুমোদনের পরে নির্ধারিত ফি নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোবে।
শুধু চালু দোকান নয়, কোনও মদের দোকানের লাইসেন্স বাতিল, প্রত্যাহার বা সমর্পণের কারণে ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট জায়গাকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, বহু দিন ধরে বন্ধ থাকা মদের দোকানের জায়গাতেও নতুন করে ব্যবসা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হল।
পুরনো ‘অন’ দোকানের ক্ষেত্রেও বদল এসেছে। নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি মদের দোকানকে অন্য ধরনের খুচরো মদের লাইসেন্সের জন্য বিবেচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর ফলে আগে থেকেই মদের ব্যবসার পরিকাঠামো রয়েছে এমন জায়গাগুলিকে নতুন লাইসেন্স ব্যবস্থার আওতায় আনার রাস্তা কিছুটা সহজ হতে পারে।
তবে শুধু পুরনো জায়গা হলেই লাইসেন্স মিলবে না। সংশ্লিষ্ট সাইটকে আবগারি বিধির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ এলাকার বিধিও বহাল থাকবে। জেলা প্রশাসনের যাচাই এবং আবগারি দফতরের অনুমোদনও বাধ্যতামূলক।
দূরত্বের নিয়মেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। শহরাঞ্চলে নতুন মদের দোকান খোলার ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান এবং হাসপাতালের মতো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে ন্যূনতম দূরত্বের মাপকাঠি বদল করা হয়েছে। সংশোধিত নিয়মে এই দূরত্ব ৫০০ মিটার করা হয়েছে। তবে এই নিয়ম নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ইতিমধ্যে চালু থাকা দোকানের ক্ষেত্রে নতুন দূরত্বের মাপকাঠি কার্যকর হবে না।
শহরের বাইরে অবশ্য দূরত্বের নিয়ম আরও কড়া। পুরসভা এলাকার বাইরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান বা হাসপাতাল থেকে নতুন মদের দোকানের দূরত্ব ১ কিলোমিটার রাখার বিধান রয়েছে।
কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থান বা হাসপাতালে একাধিক প্রবেশপথ থাকলে প্রস্তাবিত মদের দোকান থেকে সেই প্রবেশপথগুলির যে কোনও একটির দূরত্বও হিসাবের মধ্যে আসবে। অর্থাৎ, শুধু মূল গেট থেকে দূরত্ব মেপে লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
এ ছাড়াও শপিং মল ও শপিং সেন্টারে থাকা বিয়ার, ওয়াইন এবং এলএবি দোকানের ক্ষেত্রে বিধিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ‘সোসাইটি’-র পাশাপাশি ভারতীয় আইনে নথিভুক্ত অন্যান্য সংস্থাকেও সংশোধিত বিধির আওতায় আনা হয়েছে।
সব মিলিয়ে আবগারি বিধির এই পরিবর্তনে পুরনো মদের দোকানের জায়গাকে নতুন করে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হল। একই সঙ্গে নতুন দোকানের ক্ষেত্রে শহরাঞ্চলে দূরত্বের মাপকাঠিও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মদের দোকানের জায়গা, পুরনো লাইসেন্সের সাইট এবং নতুন লাইসেন্স—তিন ক্ষেত্রেই আবগারি দফতরের নিয়মে নতুন সমীকরণ তৈরি হল।
