কলকাতা: দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ বা পুজো পরিক্রমার নামে পাস বিক্রি ঘিরে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বুধবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর দফতরে হাজির হলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন। মঙ্গলবার তাঁর কসবার বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালানোর পরই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল।
জানা গিয়েছে, বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে ইডি দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছিল ইন্দ্রনীলকে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি তদন্তকারী সংস্থার দফতরে পৌঁছন। তাঁকে এই মামলায় কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং তার জন্য পাস বিক্রির আর্থিক লেনদেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়িতে তল্লাশি শুরু করে ইডি। প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে চলে সেই অভিযান। শুধু তাঁর বাড়ি নয়, তাঁর আত্মীয়, সহযোগী এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হয়। মোট একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়েছিল বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর।
ইডির তদন্তে উঠে এসেছে ‘মাস আর্ট’ বা ‘Mahanirban Road Mass Art Society’-এর নাম। অভিযোগ, কলকাতার দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ বা পুজো পরিক্রমার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই পাস বিক্রির ক্ষেত্রে UNESCO-র নাম ও লোগো ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংস্থাটিকে UNESCO-র সঙ্গে যুক্ত বা অনুমোদিত বলে প্রচার করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
অভিযোগের আর্থিক পরিমাণ নিয়েও সামনে এসেছে বড় অঙ্কের তথ্য। ইডি সূত্রকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই পাস বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ বা সন্দেহ; এখনও আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ এই ধরনের পাসের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পাসের দাম এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও ED-এর নজরে রয়েছে।
এই ঘটনায় ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামও তদন্তে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘মাস আর্ট’-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রেই সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে ED।
অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে হয়রানি করা হলে তিনি আইনি পদক্ষেপ করবেন। মঙ্গলবারের দীর্ঘ তল্লাশির পর বুধবার ED দফতরে তাঁর হাজিরা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে পাস বিক্রির টাকা কোথায় গিয়েছিল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং UNESCO-র নাম ব্যবহারের অনুমতি আদৌ ছিল কি না। সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্ত এগোচ্ছে।
