নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গ তোলায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় এবং এ ক্ষেত্রে কোনও বহিরাগত পক্ষের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।
গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ সভার সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য রাখেন এরদোয়ান। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন বিরোধের পাশাপাশি কাশ্মীর সমস্যাও আলোচনার মাধ্যমে এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ ও সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে সমাধানের পক্ষে মত দেন তিনি।
এরপরই ভারতের প্রতিক্রিয়া সামনে আসে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে ভারতের এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীরের বিষয়ে এরদোয়ানের উল্লেখ ছিল ‘অনভিপ্রেত’। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, কাশ্মীর ভারতের territorial integrity এবং sovereignty বা ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে যুক্ত। এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের locus standi নেই।
কাশ্মীর নিয়ে এরদোয়ানের মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে কাশ্মীর সমস্যার সমাধানের কথা বলেছেন। ২০১৯ সালের পর তাঁর একাধিক বক্তব্য নিয়েও নয়াদিল্লি আপত্তি জানিয়েছিল।
এবারের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রপুঞ্জের ৮১তম সাধারণ সভার উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা সেখানে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই একই, দ্বিপাক্ষিক বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বাইরে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা নয়। অন্যদিকে পাকিস্তান ও তুরস্কের পক্ষ থেকে অতীতে কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। ফলে এরদোয়ানের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং নয়াদিল্লির পাল্টা প্রতিক্রিয়া দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থানের পার্থক্যকেই ফের সামনে নিয়ে এল।
এদিকে ভারত-তুরস্ক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও কাশ্মীর একটি সংবেদনশীল বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে এরদোয়ানের কাশ্মীর মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কূটনৈতিক মহল। তবে ভারতের তরফে এ বারও বার্তা স্পষ্ট, কাশ্মীর নিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপকে নয়াদিল্লি গ্রহণ করছে না।
রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় কাশ্মীর প্রসঙ্গে এরদোয়ানের বক্তব্যের পর ভারতের এই কড়া প্রতিক্রিয়ায় ফের প্রকাশ্যে এল দুই দেশের অবস্থানের ফারাক।