মুম্বই: দীপাবলিতে বাজি না পোড়ানোর আবেদন জানিয়ে সচেতনতামূলক ভিডিও তৈরি করেছিলেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। কিন্তু সেই ভিডিও ঘিরেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি নেতাদের আপত্তির পর সমাজমাধ্যম থেকে ভিডিও সরিয়ে দেয় বৃহন্মুম্বই পুরনিগম। এবার সেই ঘটনায় পুরনিগমকে তীব্র ভর্ৎসনা করল বম্বে হাই কোর্ট। শুধু তিরস্কারই নয়, আদালতের নির্দেশ, অবিলম্বে দিয়া মির্জার ওই ভিডিও আবার প্রকাশ করতে হবে।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে। দূষণমুক্ত দীপাবলি পালনের বার্তা দিতে মুম্বই পুরনিগমের তরফে একটি সচেতনতামূলক প্রচার শুরু করা হয়েছিল। সেই প্রচারের মুখ হিসেবে বেছে নেওয়া হয় অভিনেত্রী দিয়া মির্জাকে। পুরনিগমের সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে সাধারণ মানুষকে বাজি না পোড়ানোর এবং শব্দদূষণ কমানোর আবেদন জানান অভিনেত্রী।
https://x.com/GirishKamble22/status/2117138305007735267?a=uN-4UrtnEqSB4bFptEk&s=20
কিন্তু ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। মুম্বই বিজেপির সভাপতি অমিত সতনাম দিয়ার বক্তব্যের বিরোধিতা করে প্রশ্ন তোলেন, দীপাবলি কীভাবে পালন করতে হবে, তা নিয়ে অভিনেত্রীর কাছ থেকে উপদেশ শোনার প্রয়োজন নেই।
এরপরই ভিডিওটি সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুম্বইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে। তাঁর অভিযোগ, দিয়া মির্জা অতীতে হিন্দুবিরোধী এবং সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর অভিযোগও তোলেন মেয়র। এমনকী অভিনেত্রীকে ব্ল্যাকলিস্ট করার প্রসঙ্গও উঠে আসে।
আদালতে তীব্র ভর্ৎসনা পুরনিগমকে
মঙ্গলবার বিচারপতি গিরিশ কুলকার্নি এবং বিচারপতি নীলা গোখলের বেঞ্চে বিষয়টি ওঠে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, পরিবেশ সচেতনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কেও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় রং দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। জনপ্রতিনিধিদের এমন সংকীর্ণ মানসিকতা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শে আঘাত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতিরা।
আদালত আরও মনে করিয়ে দেয়, মুম্বইয়ের নিজস্ব ধর্মনিরপেক্ষতার ঐতিহ্য রয়েছে। কারও বক্তব্য বা আচরণের কারণে সেই আদর্শ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যায় না।
ভিডিও ফেরানোর নির্দেশ
দিয়া মির্জার ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় পুরনিগমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বম্বে হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, ভিডিওটি পুনরায় আপলোড করতে হবে। অর্থাৎ, অভিনেত্রীকে ব্ল্যাকলিস্ট করার দাবি উঠলেও আদালতের নির্দেশে তাঁর সচেতনতামূলক বার্তা আবার ফিরিয়ে আনতে হচ্ছে পুরনিগমকে।
উল্লেখ্য, এর আগে দূষণমুক্ত উৎসব পালনের বিষয়ে পদক্ষেপ করার নির্দেশ দিয়েছিল বম্বে হাই কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনেই পরিচিত ব্যক্তিত্বদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, দীপাবলির পরিবেশ সচেতনতা প্রচারকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার আদালত পর্যন্ত গড়াল। পরিবেশ রক্ষার বার্তায় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এল।




