JAZZBAAT 24 বাংলা ডেস্ক: বাড়ির ছাদে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চলছিল। আচমকা সেই ঝগড়া বদলে গেল ভয়াবহ হত্যাকান্ডে! অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্বামীকে খুন করার পর তাঁর পেট চিরে নাড়ি ভুঁড়ি বের করে একটি ব্যাগে ভরছিলেন স্ত্রী। সেই ভয়ংকর দৃশ্য চোখে পড়ে যায় বাড়িওয়ালার। তাঁকে দেখে ছাদ থেকে ঝাঁপিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত মহিলা। তবে, শেষ রক্ষা হয়নি। জখম অবস্থাতেই তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন বাড়িওয়ালা।
সূত্রে খবর, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে। মৃতের নাম রাজেশ। তিনি উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। কর্মসূত্রে স্ত্রী বিমলাকে নিয়ে কুরুক্ষেত্রের পেহোয়া রোডে রাজ প্যালেসের কাছে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। প্রায় এক বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন তাঁরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ বাড়িওয়ালা রিঙ্কু আচমকায় চিৎকার ও চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান। বাড়ির ছাদে কি ঘটছে, তা দেখতে দ্রুত সেখানে পৌঁছন তিনি। আর ছাদে উঠেই তাঁর চোখে পড়ে শিউরে ওঠার মত দৃশ্য। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন রাজেশ। তাঁর পেটে ছিল গভীর ক্ষত। সেই ক্ষত দিয়ে অন্ত্র বাইরে বেরিয়ে এসেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগ, সেই সময় রাজেশের পেট থেকে বেরিয়ে আসা নাড়িভুঁড়ি একটি ব্যাগে ঢোকাচ্ছিলেন বিমলা। বাড়িওয়ালাকে দেখতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর ছাদ থেকে ঝাপিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং নিচে পড়ে গিয়ে জখম হন। পরে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিমলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
রাজেশের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক পরীক্ষায় তাঁর পেটে প্রায় ১৪ ইঞ্চি গভীর ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। শুধু তাই নয় যকৃতের একটি বড় অংশ এবং ডান পাশের কিডনিও পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীদের দাবি। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আকারের তিনটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছাদ থেকে নমুনা সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে, দম্পতির মধ্যে প্রায়ই অশান্তি চলত। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিমলা 'ঝাড়ফুঁক' এর কাজও করতেন। যদিও খুনের সঙ্গে তার কোন যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কেন এমন নৃশংসভাবে রাজেশকে খুন করা হল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিমলার বয়ান নেওয়ার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদের পর এবং ময়নাতদন্তের তথ্য আসার পর খুনের আসল কারণ সামনে আসতে পারে বলে মনে করেছে পুলিশ।