বিশেষ প্রতিবেদন: জন্মের আগেই কি এক যমজ শিশুর শরীর থেকে অন্য জনের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে ক্যানসার? সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনই বিরল ঘটনার কথা। অভিন্ন যমজ দুই শিশুর শরীরে একই ধরনের টিউমার কী ভাবে তৈরি হল, তা বুঝতে তাঁদের ক্যানসার কোষের জিনগত গঠন বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। সেই বিশ্লেষণে ইঙ্গিত মিলেছে, গর্ভাবস্থায় একটি শিশুর শরীরে তৈরি হওয়া ক্যানসার কোষ প্লাসেন্টার মাধ্যমে অন্য শিশুর শরীরেও পৌঁছে গিয়েছিল।
ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ক্যানসারের উৎপত্তি এবং তার ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাস কোষের জিনগত পরিবর্তনের সূত্র ধরে পুনর্গঠন করা সম্ভব। অর্থাৎ, রোগটি কোথা থেকে শুরু হয়েছিল এবং কী ভাবে দুই শিশুর শরীরে তার বিস্তার ঘটেছিল, তা বোঝার নতুন পথ খুলে দিয়েছে এই গবেষণা। গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা অভিন্ন যমজ দুই শিশুর টিউমার, স্বাভাবিক কোষ এবং প্লাসেন্টার নমুনার সম্পূর্ণ জিনগত বিন্যাস বিশ্লেষণ করেন। বিভিন্ন নমুনার জিনগত পরিবর্তনের তুলনা করে তাঁরা ক্যানসার কোষগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। সেই বিশ্লেষণ থেকে তাঁদের অনুমান, প্রথমে একটি যমজের শরীরে টিউমারের উৎপত্তি হয়। পরে গর্ভাবস্থাতেই প্লাসেন্টার রক্তনালির মাধ্যমে ক্যানসার কোষ অন্য শিশুর শরীরে পৌঁছে যায়। গবেষণার ফল অনুযায়ী, এই স্থানান্তর একবারই ঘটেছিল।
অভিন্ন যমজের ক্ষেত্রে সাধারণত একটি নিষিক্ত ডিম্বাণু বিভাজিত হয়ে দুটি ভ্রূণ তৈরি করে। তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য প্রায় একই রকম হওয়ায় একটি ভ্রূণের কোষ অন্যটির শরীরে পৌঁছলে তা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক ভাবে কম হতে পারে। তবে এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং একটি যমজের ক্যানসার অন্য জনের শরীরে ছড়িয়ে পড়লেই যে দু’জনেরই একই ভাবে রোগটি বাড়বে, এমন নয়। এই গবেষণার গুরুত্ব শুধু বিরল একটি ঘটনার ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। ক্যানসার কোষের জিনগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে রোগের বিবর্তন এবং তার বিস্তারের সময়ক্রম বোঝার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে গবেষণাটি একটি যমজ জুটির ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়ায়, এই ফলাফল সব ধরনের ক্যানসার বা সব যমজ গর্ভাবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
বিজ্ঞানীদের কাছে এই অনুসন্ধান তাই এক দিকে যেমন ক্যানসারের উৎপত্তি বোঝার নতুন জানালা খুলেছে, অন্য দিকে তেমনই ভ্রূণের বিকাশ এবং প্লাসেন্টার মাধ্যমে কোষের আদানপ্রদানের জটিল প্রক্রিয়া সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
