রামমন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে সংসদ চত্বরে বিরোধী সাংসদদের প্রতীকী পথনাটক ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এই ঘটনায় বিহারের পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদবের বিরুদ্ধে দিল্লির জাহাঙ্গিরপুরী থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, গেরুয়া পোশাক পরে এবং সনাতন ধর্মের প্রতীক ব্যবহার করে অভিনয় করার মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।
শুক্রবার সংসদ ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত ওই প্রতীকী প্রতিবাদে পাপ্পু যাদব পুরোহিতের বেশে বসেছিলেন। তাঁর সামনে রাখা ছিল একটি দানের বাক্স এবং ভগবান রামের ছবি। অন্যান্য বিরোধী সাংসদরা ভক্তের ভূমিকায় এসে সেই বাক্সে অর্থ দিচ্ছেন, আর পাপ্পু যাদব সেই অর্থ নিজের পকেটে রাখছেন এভাবেই রামমন্দিরে অনুদান চুরির অভিযোগকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়। এই পথনাটকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদ উপস্থিত ছিলেন।
সূর্য মৈথিল নামে এক ব্যক্তি থানায় অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন, পাপ্পু যাদব গেরুয়া বসন ও সনাতন ধর্মের প্রতীককে অসম্মান করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নাটকে ভগবান রামলালার ছবি পায়ের কাছে রাখা হয়েছিল, যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই কর্মসূচিতে রাহুল গান্ধী, ডিম্পল যাদব এবং ফৈজাবাদের সাংসদ অবধেশ প্রসাদেরও সমর্থন ছিল।
পথনাটকের সময় বিরোধী সাংসদদের মুখে ‘চাঁদা চোর, গদি ছাড়ো’, ‘জবাব তোমাকে দিতে হবে’ এবং ‘অমিত শাহ, সদনে আসুন’ সহ একাধিক রাজনৈতিক স্লোগান শোনা যায়। ঘটনাটি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সংসদ প্রাঙ্গণে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং অভিযোগ করেছেন, ভোটের রাজনীতির স্বার্থে বিরোধীরা সনাতন ধর্মকে অপমান করছে। তাঁর দাবি, দেশের মানুষ এর উপযুক্ত জবাব দেবেন। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব বলেন, অযোধ্যায় অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ মানুষের সামনে তুলে ধরতেই এই প্রতীকী প্রতিবাদ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অনুদান গ্রহণের পর বহু ভক্তকে রসিদ দেওয়া হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। তাই বিষয়টি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত বলেও তিনি দাবি করেন।