বাঘ-ভাল্লুক নয়, পূর্ব বর্ধমানের এখন আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে শুয়োপোকা। বিগত ১০ থেকে ১৫ দিন ধরে এই শুঁয়োপোকার তাণ্ডবেই অতিষ্ট হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষদের জীবন। পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী-১ ব্লকের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়কোবলা পূর্বপাড়ায় শুঁয়োপোকার ভয়াবহ উপদ্রব। যার ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির সামনে থাকা বিস্তীর্ণ পাটখেত থেকেই শুঁয়োপোকাগুলি ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। শুধু বাড়ির উঠোনেই নয়, ঘরের ভিতরেও ঢুকে পড়ছে শুয়োপোকা। ফলে রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সবকিছুই ব্যাহত হচ্ছে। শিশু ও প্রবীণদের মধ্যে ত্বকের অ্যালার্জি, চুলকানি, জ্বর, বমির মতো শারীরিক সমস্যাও দেখা দিচ্ছে। কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে হয়েছে বলেও দাবি বাসিন্দাদের। কেউ কেউ পরিবার নিয়ে অন্যত্র চলে গিয়েছে।
এ বিষয়ে এলাকার বাসিন্দা চম্পা শীল বলেন, বাড়ির সামনে পাটখেত থাকায় অসংখ্য শুঁয়োপোকা ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা বাড়িতে থাকতে পারছি না। রান্না করা যাচ্ছে না, বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। লিখিতভাবে বিষয়টি পঞ্চায়েতেও জানানো হয়েছে।'
প্রতিবছরই এলাকায় পাট চাষ হলে শুয়োপকার উৎপাত দেখা যায় কম বেশি। কিন্তু এবছর শুঁয়োপোকার উপদ্রব অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বিক্ষোভে রাস্তা অবরুদ্ধ করার হুঁশিয়ারি দেন গ্রামবাসীরা।
বাসিন্দাদের আরো অভিযোগ, সময়মতো প্রয়োজনীয় কীটনাশক প্রয়োগ না করায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পঞ্চায়েত এবং প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি তাদের। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন কি পদক্ষেপ নেয় সেটাই এখন দেখার।