ভারতে বিদেশ থেকে আসা মানুষকে অতিথি-নারায়ণ রূপে গণ্য করা হয়। তবে কোনও ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। গুপ্তচরবৃত্তি বা অন্য কোনও কারনে কাউকে বিদেশি বলে সন্দেহ করা হলে নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সেই ব্যক্তিরই—এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের এক নিখোঁজ ব্যক্তির মামলায় এই তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন এবং ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্ট-এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়। ভোটার কার্ড, আধার, প্যান, ব্যাংকের নথি বা জমির দলিল—এগুলি কেবল পরিচয়পত্র বা মালিকানার নথি মাত্র; এগুলির কোনটিই এককভাবে ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হতে পারে না।
ঘটনাটির কেন্দ্রে সুমন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি। তিনি তাঁর ভাইপোকে পুলিশ কর্তৃক বেআইনিভাবে ডিটেনশন শিবিরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে হাইকোর্টে মামলা করেন। ভাইপোকে ভারতীয় প্রমাণ করতে তিনি ভোটার, আধার, প্যান, ব্যাংকের পাসবই ও দাদুর আমলের জমির নথি আদালতে পেশ করেন। তবে আদালত জানায়, এসব তথ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণিত হয় না।
অন্যদিকে, রাজ্য সরকার আদালতকে জানায় যে আটক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশি বলে স্বীকার করেছেন, যার ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে। আইনানুযায়ী তাঁকে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দেখাতে পারেননি।
আবেদনকারীর আইনজীবী অবশ্য দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার বিরুদ্ধে তাঁদের আবেদন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই পুলিশ তাঁকে আটক করে। এই রায়ের ফলে বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য নাগরিকত্ব প্রমাণের পথ আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠল বলে মনে করছেন আইনজীবী মহল।