বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট আলোচনার জবাবি ভাষণে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি আমতলায় কার্যালয় ভাঙা নিয়ে বা শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকে অভিষেকের "একত্রিশ সালে হিসাব হবে" হুঙ্কার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ— “তুমি বাইরে থাকলে তো হিসাব হবে!”
রাজনৈতিক জল্পনা বাড়িয়ে অভিষেককে নাম না করে 'প্রতিষ্ঠিত চোর' ও 'ছোঁড়া' বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি জেলের ভেতরে থাকবেন না বাইরে, তা সময়ই বলবে। একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, আগামী নির্বাচনে তাঁকে ওই কেন্দ্রেই লড়তে হবে এবং যত ভোটে তিনি জিতেছেন, তত ভোটেই তাঁকে হারানো হবে। তাঁর অবস্থা 'পুষ্পা' চলচ্চিত্রের চরিত্রের চেয়েও করুণ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সাংসদ হিসেবে নিজের এলাকাতেই অভিষেকের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। ৪ মে-র পর সাংসদ জোকা পেরিয়ে ডায়মন্ড হারবার গিয়েছেন কি না, তা নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। এমনকি ফলতার উপনির্বাচনে দলের প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে না যাওয়া নিয়েও সরব হন। প্রসঙ্গত, উক্ত প্রার্থীর পুলিশি গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকেও নিশানা করেন তিনি।
কালীঘাটে আয়োজিত তৃণমূলের শহিদ দিবসের অনুষ্ঠানকে বিদ্রূপ করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বিড়লা তারামণ্ডল সংলগ্ন স্থানে অনুষ্ঠিত সেই সভায় পুলিশের হিসাব অনুযায়ী আড়াই হাজারের বেশি লোক ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের "অভিষেক বাঘ" মন্তব্যের জবাবে তাঁর বক্তব্য— "ওটা বাঘ না বিড়াল!"
পরিশেষে, "ভাইপোপন্থী তৃণমূল"-এর নাম-নিশানা পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুছে ফেলার অঙ্গীকার করে মুখ্যমন্ত্রী। জানান, সমস্ত দুর্নীতির গর্ত খুঁড়ে সত্য সামনে আনা তাঁর দায়িত্ব। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাকযুদ্ধে রাজ্যের আগামী নির্বাচন ঘিরে শাসক-বিরোধী সংঘাত নতুন মাত্রা পেল।