নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: দলিত সংরক্ষণের অন্দরে উপ-শ্রেণিবিভাগ নিয়ে এনডিএ-র দুই শরিকের তীব্র সংঘাত, পরস্পরকে ইস্তফার দাবি চিরাগ-মাঝির।তপশিলি জাতি ও উপজাতি সংরক্ষণের অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাস এবং ‘ক্রিমি লেয়ার’ প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্দরেই চরমে পৌঁছল মতবিরোধ। একদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা-র প্রতিষ্ঠাতা জিতন রাম মাঝি ও তাঁর পুত্র সন্তোষ কুমার সুমন অতি-অনগ্রসর দলিতদের জন্য পৃথক কোটার সওয়াল করেছেন।
অন্যদিকে লোক জনশক্তি পার্টি-র প্রধান চিরাগ পাসোয়ান এই পদক্ষেপকে দলিত ঐক্যে ভাঙন ধরানোর চক্রান্ত বলে তোপ দেগেছেন। বিতর্কের পারদ এতটাই চড়েছে যে দুই শিবিরের শীর্ষ নেতারাই একে অপরের ইস্তফা দাবি করেছেন।
বিতর্কের সূত্রপাত বিহার সরকারের মন্ত্রী সন্তোষ কুমার সুমনের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সুমনের দাবি, বর্তমান সংরক্ষণ ব্যবস্থার পূর্ণ সুফল দলিত সমাজের একেবারে প্রান্তিক স্তরে পৌঁছচ্ছে না। মুসাহার, ভুঁইয়া, নট বা ডোমদের মতো অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়গুলি আজও প্রতিনিধিত্বের নিরিখে বহু যোজন দূরে। ফলে এসসি তালিকার ভেতরেই ‘কোটার মধ্যে কোটা’ বা উপ-শ্রেণিবিভাগ কার্যকর করা প্রয়োজন, যাতে অনগ্রসর গোষ্ঠীগুলি তাদের ন্যায্য অধিকার পায়।
এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ান। তিনি জানান, অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে সংরক্ষণকে বিবেচনা করা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী। তাঁর মতে, সংরক্ষণের ভিত্তি মূলত সামাজিক অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ, অর্থনৈতিক মানদণ্ড নয়। দলিতদের মধ্যে বিভাজন টানা হলে সামগ্রিক সমাজ দুর্বল হয়ে পড়বে।
মাঝি শিবিরকে নিশানা করে তিনি বলেন, যাঁরা দলিত সংরক্ষণে ক্রিমি লেয়ার চালু করতে চান, তাঁরা যেন আগে নিজেদের মন্ত্রিত্ব এবং সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
চিরাগের মন্তব্যের জবাবে গর্জে ওঠেন গয়ার সাংসদ জিতন রাম মাঝি। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রান্তিক দলিতদের অধিকার সুরক্ষার অর্থ সংরক্ষণের বিরোধিতা করা নয়। চিরাগ সামাজিক বাস্তবতা উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়েছেন দাবি করে উল্টে চিরাগেরই পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
এই বাকযুদ্ধের আবহে বিহারের শাসক জোটের প্রধান শরিক জনতা দল ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়, বাবাসাহেব অম্বেডকরের তৈরি সংবিধান অনুযায়ী সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে এবং এই নিয়ে অহেতুক রাজনৈতিক সংঘাতের কোনো জায়গা নেই।
তবে অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ থাকলেও কংগ্রেসকে আক্রমণের প্রশ্নে একই সুরে কথা বলেছেন দুই নেতাই। মল্লিকার্জুন খাড়গেও ঐতিহাসিক জগজীবন রামের প্রসঙ্গের অবতারণা করে উভয়েই দলিত ইস্যুতে কংগ্রেসের অতীত ভূমিকাকে একযোগে কাঠগড়ায় তুলেছেন।




