নিউজ ডেস্ক: উৎসবের মরসুমে প্রত্যাশামতোই রেল কর্মীদের জন্য সুখবর দিল কেন্দ্রীয় সরকার। দুর্গাপুজো ও দশেরার ঠিক মুখে নন-গেজেটেড রেলকর্মীদের জন্য ৭৮ দিনের বেতনের সমপরিমাণ বোনাস দেওয়ার প্রস্তাবে সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পৌরোহিত্যে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আর্থিক বরাদ্দের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সরকারের এই পদক্ষেপে দেশের মোট ১১ লক্ষ ৪০ হাজার ৭৭০ জন রেলকর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন।
এই খাতে সরকারি কোষাগার থেকে মোট ২,০০৯ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা খরচ করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি যোগ্য কর্মী সর্বোচ্চ ১৭,৯৫১ টাকা পর্যন্ত বোনাস হাতে পাবেন। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে-ঘাটে কাজ করা তৃণমূল স্তরের রেলকর্মীদের মুখে হাসি ফোটানোই এই বার্ষিক উৎসবকালীন বোনাসের মূল উদ্দেশ্য।
রেলের সার্বিক পরিচালন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত নন-গেজেটেড ও ‘সি’ গ্রুপের কর্মীরাই এই আর্থিক সুবিধার আওতায় আসছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত ট্র্যাক মেন্টেনার, দিন-রাত ট্রেন চালানো লোকো পাইলট, ট্রেন ম্যানেজার (গার্ড), স্টেশন মাস্টার ও বিভিন্ন বিভাগের সুপারভাইজাররা। এ ছাড়া কারিগরি কাজের সঙ্গে যুক্ত টেকনিশিয়ান, তাঁদের সহকারী, পয়েন্টসম্যান এবং দফতরে কর্মরত মিনিস্টিরিয়াল ও অন্যান্য ‘সি’ বিভাগের কর্মীরাও এই সুবিধা পাবেন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার তরফে জানানো হয়েছে, কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্সকে স্বীকৃতি জানাতেই এই বোনাস দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিষেবা আরও উন্নত করার জন্য কর্মীদের বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগানোও এর অন্যতম লক্ষ্য। পরিসংখ্যানেও সেই সাফল্যের প্রতিফলন স্পষ্ট। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতীয় রেল রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য অর্জন করেছে। এই সময়ে রেলওয়ে একাই প্রায় ১,৬৭০ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহন করেছে এবং সফর করিয়েছে প্রায় ৭.৪১ বিলিয়ন যাত্রীকে। বিপুল এই কর্মযজ্ঞ সফল করতে দিনরাত এক করে কাজ করেছেন কর্মীরা।
গত বছরের তুলনায় এ বার মোট বরাদ্দ ও সুবিধাভোগীর সংখ্যা দু’টিই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর যখন ৭৮ দিনের বোনাস ঘোষণা হয়েছিল, তখন বরাদ্দ ছিল ১,৮৬৫.৬৮ কোটি টাকা এবং উপকৃত হয়েছিলেন ১০ লক্ষ ৯১ হাজার ১৪৬ জন কর্মী। সেই তুলনায় এ বছর মোট বরাদ্দের পরিমাণ বেড়েছে ১৪৩.৯৩ কোটি টাকা, যা প্রায় ৭.৭ শতাংশ বৃদ্ধির সমান। পাশাপাশি নতুন করে যুক্ত হয়েছেন প্রায় ৪৯,৬০০ জন কর্মী, অর্থাৎ সুবিধাভোগীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪.৫ শতাংশ। তবে কর্মীর মাথাপিছু প্রদেয় সর্বোচ্চ আর্থিক সীমা (১৭,৯৫১ টাকা) এবং কাজের দিনের হিসেব (৭৮ দিন) আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।





