স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেই ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে নতুন বিতর্কে কংগ্রেস। শনিবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে সনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের সময় দু’জনেই আশপাশে থাকা দলীয় কর্মীদের দিকে হাত দিয়ে কিছু ইঙ্গিত করছেন। সেই অঙ্গভঙ্গিকে ‘গান থামানোর নির্দেশ’ বলে দাবি করেছেন বিরোধীরা। কিছুক্ষণ পর রাহুল গান্ধীকেও একই রকম বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়।
ঘটনা ঘিরে সমাজ মাধ্যমে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে জাতীয় স্তোত্রের অবমাননার অভিযোগ উঠেছে। যদিও কংগ্রেসের তরফে বিষয়টি নিয়ে এখনও কোনও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দলের প্রবীণ নেতা অশোক গহলৌত বলেন, ‘‘কোনও বিতর্ক নেই। কংগ্রেসের হাই কমান্ড বা জয়রাম রমেশ দলের অবস্থান জানাবেন।’’ ফলে ভিডিওটি তে ঠিক কী কারণে ওই অঙ্গভঙ্গি দেখ গিয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গিয়েছে।
‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে বিজেপি-কংগ্রেস সংঘাত অবশ্য নতুন নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একাধিক বার অভিযোগ করেছেন, স্বাধীনতার আগে কংগ্রেস জাতীয় স্তোত্রের প্রথম দু’টি স্তবক রেখে বাকি অংশ বাদ দিয়েছিল। ১৮৭৫ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা করেছিলেন ‘বন্দে মাতরম’। পরবর্তীতে যা তাঁরই ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল গানটি। এর পর ১৯৫০ সালে ছয় স্তবকের গানটির প্রথম দু’টি স্তবক রাষ্ট্রীয় গীতের মর্যাদা পেলেও বাকি অংশগুলি নিয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক বিতর্ক।
এ দিনের বিতর্কের আবহ আরও তাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে যে, এ বার স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী মোদীর অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর আগে পরিবেশিত হয় ‘বন্দে মাতরম’। এ বছর গানটির ১৫০ বছর পূর্তিও পালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে কংগ্রেসের অনুষ্ঠানের ভিডিওকে হাতিয়ার করে বিরোধী দলকে নিশানা করেছে বিজেপি। ফলে ‘বন্দে মাতরম’ ঘিরে রাজনৈতিক তরজা স্বাধীনতা দিবসের দিনও থামল না।