স্পোর্টস ডেস্ক: মেজাজটাই তো আসল রাজা। সেটাই ফের মনে করালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। সিএনএন পর্তুগালে রোনাল্ডোর সাক্ষাৎকার ঘিরে তুমুল সমালোচনা বিশ্ব ফুটবলে। ওই সাক্ষাৎকারে রোনাল্ডো দাবি করেছেন, তিনিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই দাবি ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। মেসি তো বটেই, অনেকেই টেনে এনেছেন পেলে-মারাদোনার সঙ্গে তুলনাও।
সিএনএন পর্তুগালের ওই সাক্ষাৎকারের টিজার সামনে এসেছে। সেখানে রোনাল্ডো স্পষ্ট বলেছেন, ‘মানুষ আমার খেলা বা আমার গোলগুলোকে সেভাবে কদর করছে না। হাজার গোলের মাইলফলক থেকে আমি ৮৫টা গোল দূরে। ৯২০, ৯২৫, বা ৯৩০, গোলের সংখ্যা যা-ই হোক না কেন, আমিই ইতিহাসের সেরা ফুটবলার। ফুল স্টপ। কে ইতিহাসের সেরা, তা নিয়ে কোনও তর্ক হওয়া উচিত নয়। আপনাকে গোল করতেই হবে। পরিসংখ্যানই সব বলে দেয়।’ সেইসঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি মাথা ঘামাই না। আমি আমার সন্তানদের দিব্যি দিয়ে বলছি, আমি বর্তমানে থাকি। আমি জানি না, আগামিকাল কী হবে। ঘুম থেকে ওঠার পরে আমার হয়তো মোটিভেটেড মনে হবে না এবং আর খেলতে ইচ্ছা করবে না।’
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে জাতীয় দল থেকে প্রাথমিকভাবে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়েছে রোনাল্ডোকে। পর্তুগালের নতুন কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধের জেরে নেশনস লিগে ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে পর্তুগালের জাতীয় শিবির ছেড়ে চলে যান সিআরসেভেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ম্যাচে খেলানো নিয়ে হেড কোচ যে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তা তিনি ভঙ্গ করেছেন। যদিও পরবর্তীতে সতীর্থ ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে রোনাল্ডো জানান, জাতীয় শিবির ছেড়ে যাওয়া উচিত হয়নি তাঁর। কিন্তু, তাতে চিড়ে ভেজেনি। প্রাথমিকভাবে দল থেকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয় তাঁকে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তদন্তও হচ্ছে তাঁর বিরুদ্ধে।
কেরিয়ার গোলে মেসির থেকে অনেকটাই এগিয়ে রোনাল্ডো। যদিও, মেসি ২০২২-এ বিশ্বকাপ জিতেছেন। দু’বার কোপা আমেরিকা জিতেছেন। দু’বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন। অন্যদিকে পেলে ৩ বার, দিয়েগো মারাদোনা একবার বিশ্বকাপ জিতেছেন। সেখানে রোনাল্ডো কোনওদিন বিশ্বকাপ জেতার ধারেকাছে যেতে পারেননি। পর্তুগালের হয়ে সাফল্য বলতে একবার ইউরো কাপ এবং দু’বার নেশনস লিগ জয়। সদ্য আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন মেসি। বিদায়বেলায় পেয়েছেন আবেগঘন সংবর্ধনা। উল্টোদিকে রোনাল্ডোর কেরিয়ারের শেষ ঢাকা বিতর্কের কালিমায়।