নিউজ ডেস্ক: সিজেপির প্রতিবাদে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তরুণ-তরুণীরা দিল্লিতে আসতে পারেন, এই আশঙ্কায় হোটেল, গেস্ট হাউস, হস্টেল এবং পেয়িং গেস্ট আবাসনে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। হোটেলের রেজিস্টার ও অতিথিদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। কারা কত দিনের জন্য এসেছেন, দলবদ্ধভাবে ঘর বুক করেছেন কি না এবং দিল্লিতে আসার উদ্দেশ্য কী — সেই বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকটি হোটেলকে নির্দিষ্ট শ্রেণির অতিথিদের ঘর না দেওয়ার নির্দেশ বা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ সামনে এসেছে।
দিল্লিতে পৌঁছনোর আগেই আন্দোলনকারীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মধ্যপ্রদেশের ভোপাল ও গোয়ালিয়রের মতো এলাকায় দিল্লিগামী ট্রেন থেকে অন্তত ৩০ জন প্রতিবাদীকে নামিয়ে আটক করা হয়। তাঁরা গোয়া, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা বলে জানানো হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতেই তাঁরা দিল্লি যাচ্ছিলেন।
দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে CJP-র সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উপরেও নজরদারির খবর সামনে এসেছে। ৮ অক্টোবর যন্তর মন্তরের প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পোস্টার বিলি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। এ ছাড়াও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠক ও অন্যান্য গোষ্ঠীর সদস্যদের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বড়সড় বিধি নিষেধ জারি করা হয়েছে। ১০ অক্টোবরের কর্মসূচির আগে দিল্লিতে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং মধ্য দিল্লির নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বাতিলের খবরও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের দাবি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং পূর্ববর্তী কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যার আশঙ্কা থেকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। CJP-র পক্ষ থেকে অবশ্য এই কর্মসূচিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে তুলে ধরে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এই দিন CJP-র কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।