নিউজ ডেস্ক : এক মাসও কাটেনি, তার মধ্যে ফের বিপর্যয়ের সাক্ষী রাজধানী। সন্ধ্যার স্বাভাবিক ব্যস্ততার মাঝেই আচমকায় বদলে গেল পরিস্থিতি। মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো আতঙ্ক, শুরু হল উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের জন্য ছুটে এলেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাণে বাঁচানো গেল না দুজনকে। ফের বাড়ির নিরাপত্তা ও নির্মাণ কাজের নিয়ম মানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি উত্তর পূর্ব দিল্লির হর্ষ বিহার থানার অন্তর্গত মিলন গার্ডেন এলাকার। রবিবার ২৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় একটি নির্মীয়মান বাড়ি ভেঙে পড়ে। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বাবা ও ছেলের। মৃতের নাম চন্দ্র পাল, বয়স ৬০ বছর এবং তাঁর ছেলে বিজয় কুমার, বয়স আনুমানিক ৩৩ থেকে ৩৬ বছরের মধ্যে বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাড়িটিতে অতিরিক্ত একটি তলা নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই সময় নতুন করে কংক্রিটের স্ল্যাব ঢালাই করা হচ্ছিল। অভিযোগ, নিচের পুরনো কাঠামো নতুন স্ল্যাবের ভার বহন করতে পারেনি। ফলে আচমকায় বাড়িটির একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন চন্দ্রপাল ও বিজয়। তবে, ধসের সঠিক কারণ জানতে তদন্তে কি উঠে আসে, তা অত্যন্ত জরুরি।
দমকল সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৬ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দিল্লি দমকল, স্থানীয় পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স কর্মী এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। দীর্ঘক্ষণ ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার কাজ চালানো হয়। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত বাবা ও ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার পর ফের সামনে এসেছে দিল্লির বাড়ি নির্মাণের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। এর আগে সত্য নিকেতন এলাকায় বাড়ি ধসের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মিলন গার্ডেনের এই বিপর্যয় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, পুরনো বাড়িতে অতিরিক্ত তলা নির্মাণের আগে কাঠামোগত নিরাপত্তা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না। বাড়ি নির্মাণে নিয়ম মেনে চলা, পুরনো কাঠামোর সক্ষমতা যাচাই এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কতটা জরুরি, এই দুর্ঘটনা ফের তা মনে করিয়ে দিল।




