নিউজ ডেস্ক: দিল্লির চলন্ত স্লিপার বাসে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ করল আদালত। ঘটনার প্রায় দেড় মাসের মধ্যেই অভিযুক্ত বাসচালক ও কন্ডাক্টরের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে দিল্লির তিস হাজারি আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে শুরু হবে বিচারপ্রক্রিয়া।
অভিযুক্ত দু’জনের নাম কুলদীপ এবং সন্দীপ। তাঁদের বিরুদ্ধে নাবালিকাকে অপহরণ, ধর্ষণ-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর দিল্লি পুলিশ আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছিল। সেই চার্জশিটে থাকা তথ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে বুধবার বিচারক সোনম গুপ্ত চার্জ গঠন করেন।
পুলিশের দাবি, তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ফরেন্সিক প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। দুই অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নাবালিকার পোশাক এবং বাস থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে অভিযুক্তদের ডিএনএ-র মিল পাওয়া গিয়েছে। সেই তথ্যও চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৪ অগস্ট। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে পড়াশোনা নিয়ে বকাবকি করেছিলেন তাঁর মা। এরপর কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। নয়ডার সেক্টর ৬৩ এলাকায় থাকা এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য বাসে চেপেছিল কিশোরী।
রাত হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টিও হচ্ছিল। জায়গা বুঝতে না পেরে ভুল করে গ্রেটার নয়ডার পরী চৌক এলাকায় নেমে পড়ে সে। পরে বুঝতে পারে, ভুল জায়গায় নেমে গিয়েছে। অপেক্ষা করার সময় একটি স্লিপার বাস দেখতে পেয়ে সে জানতে পারে বাসটি নয়ডার সেক্টর ৬৩-র দিকে যাচ্ছে। এরপর বাসটিতে উঠে পড়ে কিশোরী।
পুলিশের কাছে দেওয়া বয়ানে কিশোরী জানিয়েছে, বাসে ওঠার কিছুক্ষণ পর থেকেই কন্ডাক্টর তাঁর দিকে অশালীন আচরণ করতে শুরু করেন। অভিযোগ, এরপর বাসচালক ও কন্ডাক্টর দু’জনে মিলে তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালান। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এরপর পরী চৌক থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরে পুরনো দিল্লির কাশ্মীরি গেট বাস টার্মিনালের কাছে রিং রোডের ধারে কিশোরীকে ফেলে দিয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
অগস্টের শেষদিকে পুলিশ দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। এরপর তদন্ত এগিয়ে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। আদালতে চার্জ গঠনের ফলে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপর্ব শুরু হতে চলেছে।
দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক ধর্ষণ ও গণধর্ষণের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টও স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছে। ফলে এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার দিকেও নজর থাকবে।
