কলম্বিয়ার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন দেইসি আলেখান্দ্রা ওমানিয়া ওরতিজ়। একসময় প্রাপ্তবয়স্ক ছবির অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত এই ৩৩ বছর বয়সি নারী এবার দেশের আইনসভার উচ্চকক্ষ সেনেটের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা ঘিরে যেমন চর্চা চলছে, তেমনই তৈরি হয়েছে বিতর্কও।
দেইসি মঞ্চনাম ‘অ্যামারান্তা হ্যাঙ্ক’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। কুকুটা শহরে জন্ম নেওয়া দেইসি রাজনীতিতে আসার আগে সাংবাদিকতা করতেন। ২০১৭ সালে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন জগতে কাজ শুরু করেন। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই সেই পেশা ছেড়ে নতুন পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০২৬ সালের কলম্বিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী ‘হিস্টোরিক প্যাক্ট’ জোটের প্রার্থী হিসেবে নর্তে দে সান্তান্দের অঞ্চলের আসনের জন্য লড়াই করেন দেইসি। দলীয় তালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল ২৩ নম্বরে। তবে জোট পর্যাপ্ত আসন পাওয়ায় তিনি সেনেটে যাওয়ার সুযোগ পান। এরপর বোগোটায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারে দেইসির মূল বিষয় ছিল প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের অধিকার। তাঁর দাবি, এই ক্ষেত্রের কর্মীদেরও অন্যান্য পেশার মানুষের মতো শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, এই পেশায় যুক্ত অনেক মানুষ সামাজিক বৈষম্য ও আইনি সমস্যার মুখোমুখি হন।
শুধু এই বিষয় নয়, নারী অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের সুরক্ষার পক্ষেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন এই সেনেটর।
তবে রাজনীতিতে প্রবেশের পর তাঁর অতীত পেশা নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। দেইসি সেই সমালোচনার জবাব দিয়ে বলেছেন, কোনও মানুষের অতীত পেশা নয়, বরং তাঁর যোগ্যতা, চিন্তাভাবনা এবং জনসেবার ক্ষমতাই গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের অবস্থান বোঝাতে তিনি ইতালির প্রাক্তন সাংসদ ইলোনা স্ট্যালারের উদাহরণও তুলে ধরেছেন। স্ট্যালারও একসময় প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর দল হিস্টোরিক প্যাক্টের এই নতুন সেনেটর এখন আইনসভায় নিজের জায়গা তৈরি করতে চান। তাঁর মতে, ব্যক্তিগত পরিচয়ের বাইরে গিয়ে মানুষের অধিকার ও সামাজিক সমস্যার সমাধানই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।