নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে CJP-র বিক্ষোভের আগে বড় দাবি ঘিরে চাঞ্চল্য! যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা ছিল ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির। কিন্তু তার আগেই শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত থেকেই তাঁর পরিবারের আবাসনের বাইরে পুলিশ মোতায়েন ছিল বলে খবর। যদিও ধ্রুব রাঠিকে আটক করার বিষয়টি সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
১০ অক্টোবর, শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে Cockroach Janta Party (CJP)-র ডাকে বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই বিক্ষোভে অংশ নিতে ধ্রুব রাঠি দিল্লিতে এসেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু কর্মসূচির আগেই তাঁকে আটক করার খবর সামনে আসায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
রাত থেকেই বাড়ির বাইরে পুলিশ, সকালে আটক করার দাবি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-র সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে ধ্রুব রাঠির পরিবারের আবাসনের বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশকর্মী জড়ো হন। শনিবার সকাল ৭টা ৪৮ মিনিট নাগাদ তাঁর মা দরজা খোলার পর পুলিশ বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে এবং ধ্রুব রাঠিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় বলে সূত্রের দাবি।
তবে তাঁকে ঠিক কী কারণে আটক করা হয়েছে, কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি। পুলিশের তরফেও আটক সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে গোটা ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।
যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অনুমতি দেয়নি পুলিশ
CJP-র এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি-সহ জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, অতীতের আইনশৃঙ্খলাজনিত উদ্বেগ এবং জননিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি।
বিক্ষোভের আগে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো এবং যাতায়াতের উপর কড়াকড়ির খবরও সামনে এসেছে। ফলে প্রতিবাদকারীরা শেষ পর্যন্ত কোথায় জমায়েত হবেন এবং কর্মসূচি কতটা বড় আকার নেবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রতিবাদ, নিশানায় নির্বাচন কমিশন
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-সহ নির্বাচনী তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। CJP-র দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভোটারদের অধিকার রক্ষায় ওঠা অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সেই দাবিতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চাওয়া হয়েছে।
ধ্রুব রাঠি এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে নিজের মতামত এবং ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন। এবার দিল্লির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণের খবর এবং তার আগে তাঁকে আটক করার অভিযোগ ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ধ্রুব রাঠিকে সত্যিই আটক করা হয়েছে কি না এবং হলে কী আইনি ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সরকারি বক্তব্য সামনে না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। CJP-র বিক্ষোভ এবং ধ্রুব রাঠিকে ঘিরে এই বিতর্কের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকেই এখন নজর।
