বিতর্ক যেন পিছু ছাড়তেই চাইছে না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রতিনিয়তই যেন একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি। দলেরই এক কর্মীকে প্রকাশ্যে চড় মারার ঘটনাকে ঘিরে এবার তাঁর বিরুদ্ধে 'হতাশার রাজনীতি'-র অভিযোগ তুললেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
সম্প্রতি , প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক কর্মীকে প্রকাশ্যে চড় মারার ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রীতিমতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ক্ষমতা হারানোর হতাশা এবং কালীঘাট তৃণমূলে ক্রমশ কমতে থাকা সমর্থনের জেরেই নিজের দলের কর্মীদের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার সকালে খড়্গপুরের ‘চা চক্র’-এ যোগ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, 'কালীঘাট আগেই ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এতটাই হতাশ ও নিরাশ হয়ে পড়েছেন যে নিজের দলের লোককেই চড় মারছেন। ক্ষমতা চলে গেলে মানুষের কী অবস্থা হয়, সেটা ওঁকে দেখলেই বোঝা যায়।' একইসঙ্গে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন তিনি।
এরই পাশাপাশি শনিবার বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগদান নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, 'আজ এক দিকে, কাল আর এক দিকে। তৃণমূলে কে কার সঙ্গে আছে, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না।'
শুধু এখানেই থেমে যাননি দিলীপ ঘোষ। বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি নিয়ে চলা টানাপোড়েন নিয়ে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য, 'সংখ্যাগরিষ্ঠতা যার থাকবে, বিধানসভায় তারাই বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। এটা সম্পূর্ণ ওদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দিলীপ ঘোষের এই কটাক্ষ রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে। নতুন করে রাজনৈতিক মহলের বিতরকের ইঙ্গিত দিচ্ছে।