সময় তখন রাত সাড়ে দশটা। অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে দ্রুত হসপিটালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাধ্য হয়েই গাড়ি নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন স্বামী। কিন্তু বাড়ির পাশেই পুলিশের নাকা চেকিংয়ে আটকানো হলো গাড়ি। কারণ স্বামী মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তারপরের ঘটনায় রীতিমতো তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ওই ব্যক্তি গোটা ঘটনাই ক্যামেরাবন্দি করছেন। ভিডিওতে তিনি নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি কিছুটা মদ্যপ অবস্থায় রয়েছেন। কিন্তু তার অন্তঃসত্তা স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়াও খুব প্রয়োজন। এদিকে নাকা চেকিংয়ের কারণে তিনি এগোতে পারছেন না। তাই পুলিশের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান তিনি।
পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওই পুলিশকর্মী তাকে গাড়ি থেকে নেমে আসতে বলেন। আর তারপর নিজেই গাড়িতে উঠে ওই মহিলাকে আশ্বস্ত করে পুলিশ কর্মী বলেন 'আপনাদের সেবায় আমরা সর্বদা রয়েছি। আপনাকে নিরাপদে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রথম কর্তব্য।'
মুহূর্তে বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি শুধু নিয়ম দেখে গাড়ি থেকে আজকে না রেখে বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন ওই পুলিশকর্মী যে পুলিশকর্মীর হাতে আইনের দায়িত্ব রয়েছে সেই মুহূর্তে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ওই অসহায় পরিবারের ভরসা।
তবে এখানেই থেমে নেই। ওই পুলিশ কর্মী নিজেই ব্যক্তিটিকে ভিডিও করতে বলেন। ভিডিওর মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চান যে, পুলিশের কাজ শুধু আইন ভাঙলে ব্যবস্থা নেওয়া নয়, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো পুলিশের কাজ।
ঘটনা ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই পুলিশকর্মী প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেট দুনিয়া। পাশাপাশি ওই মহিলার মদ্যপ স্বামীকে তীব্র সমালোচনা করেছেন অনেকেই। মুম্বাই পুলিশের এই মানবিক চরিত্র মনে করিয়ে দেয় পুলিশের কাজ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, বিপদে পড়লে সাধারণ মানুষের পাশে থাকাও তাদের কাজ।