কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের সংঘাত এখন পৌঁছেছে নির্বাচন কমিশনের দরজায়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আজ, ১৬ সেপ্টেম্বর। তার আগেই ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং দলের নাম নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে দুই পক্ষ।
বিতর্কের একদিকে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী। দু’পক্ষই নিজেদের তৃণমূল কংগ্রেসের বৈধ সাংগঠনিক প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করছে এবং দলের নাম ও প্রতীকের উপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কমিশনে নথি জমা দিয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর দুই পক্ষের সঙ্গে শুনানিও করেছে নির্বাচন কমিশন।
এখন মমতা শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি, ২২ জুনের বিশেষ অধিবেশনের আগেই অর্থাৎ ২০ জুন কালীঘাটে সাংগঠনিক রদবদলের বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অথরাইজড সিগনেটরি এবং নির্বাচন কমিশনের অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটিভের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। এই দাবির সমর্থনে শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার কপিও কমিশনে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে মমতা শিবির।
অন্যদিকে, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ১২ সেপ্টেম্বর কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে দাবি করেছেন, ২০ জুন এমন কোনও বৈঠক হয়নি এবং তাঁকে ওই বৈঠকের কোনও আমন্ত্রণও দেওয়া হয়নি। ফলে বৈঠক আদৌ হয়েছিল কি না, সেটিও কমিশনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
ঋতব্রত শিবির আবার আলিপুর আদালতের একটি রায়কে নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে তুলে ধরছে। তাদের বক্তব্য, ২২ জুনের বিশেষ অধিবেশনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের চেয়ারপার্সন হিসেবে কর্তৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মমতা শিবিরের পাল্টা বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন একটি স্বতন্ত্র সাংবিধানিক সংস্থা এবং আদালতের ওই রায় কমিশনের সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়।
এছাড়াও মমতা শিবির তৃণমূলের সাংগঠনিক সংবিধানের উল্লেখ করছে। তাদের দাবি, চেয়ারপার্সন নির্বাচন পাঁচ বছর অন্তর হওয়ার কথা এবং শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই হিসাবে পরবর্তী নির্বাচন ২০২৭ সালে হওয়ার কথা—এই যুক্তিতে ২২ জুনের অধিবেশনের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে তারা। এটি অবশ্য মমতা শিবিরের বক্তব্য, যার বৈধতা নিয়ে কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বিষয় হবে।
এদিকে কমিশন ইতিমধ্যেই মমতা শিবিরকে ঋতব্রত গোষ্ঠীর জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার মধ্যে জবাব দিতে বলেছে। প্রয়োজন হলে ১৭ সেপ্টেম্বর ফের শুনানি হতে পারে বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। উপনির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়ার মুখে তৃণমূলের নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্ত কবে এবং কীভাবে আসে, সেটিই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।