নিউজ ডেস্ক: নিট-ইউজি (NEET UG) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পুলিশের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তৈরি হয়েছিল এক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। সেই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গঠন বদলের আর্জি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়াই দিল না সুপ্রিম কোর্ট। বরং কাজ শুরু করার আগেই কমিটির বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করায় আবেদনকারীদের ভর্ৎসনা করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন ৩ জন বিচারপতির বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, "অনুমান এবং পূর্বধারণার ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।"
গত ২০ অগাস্ট এই কমিটি তৈরি করেছিল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রাক্তন বিচারপতি আর. সুভাষ রেড্ডির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের কমিটিতে রয়েছেন পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রবি শঙ্কর ঝা, দিল্লি হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি শালিন্দর কৌর, সিবিআইয়ের প্রাক্তন অধিকর্তা ঋষি কুমার শুক্ল এবং মেঘালয়ের প্রাক্তন ডিজিপি এলআর বিষ্ণোই।
২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে ছাত্রদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ-সহ একাধিক অভিযোগ খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে। আবেদনকারীদের আইনজীবীরা অবশ্য জানিয়েছিলেন, তাঁরা সরাসরি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলছেন না। তাঁদের বক্তব্য ছিল, কমিটির এমন ভাবমূর্তি থাকা দরকার যাতে সব পক্ষই তার ওপর আস্থা রাখতে পারে।
কিন্তু এই আপত্তির সময় নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে আদালত। ১০ সেপ্টেম্বরের আদেশ বুধবার প্রকাশ্যে আসে। সেখানে পরিষ্কার ভাষায় বেঞ্চ জানায়, কমিটি তদন্তে নামার আগেই তড়িঘড়ি তার বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই কমিটি কোনও পক্ষের হয়ে সওয়াল করার জন্য তৈরি হয়নি।
আদালতকে সাহায্য করতেই সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করবে তারা। আপাতত তদন্তের কেন্দ্রে থাকবে বিক্ষোভে পেলেট গান ব্যবহার, পরিকল্পিত হিংসা, মহিলা আন্দোলনকারীদের হেনস্থা এবং আন্দোলনকারী ও পুলিশের দু’পক্ষের অতিরিক্ত হিংসা ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ।
এ দিকে, অভিযোগ বা প্রমাণ জমা দেওয়ার রাস্তাও সহজ করেছে আদালত। ঝুঁকিপূর্ণ সাক্ষীদের জন্য আলাদা অনলাইন পোর্টাল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে পরিচয় গোপন রেখেই নথি ও প্রমাণ সরাসরি কমিটির কাছে পাঠানো যাবে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশও দিয়েছে বেঞ্চ।
মামলায় আদালতকে সাহায্য করতে সিনিয়র আইনজীবী মণিকা গুয়াসিন এবং অ্যাডভোকেট-অন-রেকর্ড সি. সলোমনকে অ্যামিকাস কিউরি করা হয়েছে। পুলিশের মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সেই তথ্য বেসরকারি সংস্থার কাছে রাখার মতো বৃহত্তর সাংবিধানিক প্রশ্নগুলি অবশ্য এখনই নয়, বরং উপযুক্ত সময়ে শুনবে শীর্ষ আদালত।