নিউজ ডেস্ক: রাশিয়াকে ভারতের অন্যতম বড় বন্ধু বলেই জানে গোটা বিশ্ব। এ বার সেই বন্ধুত্বে নয়া মোড়। মস্কো ও কালুগায় ভারতীয় সংস্থার অংশীদারিতে গড়ে উঠতে চলেছে একাধিক ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামালের কারখানা। রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী অ্যান্টন আলিখানভ জানিয়েছেন, মস্কোর কাছে দুবনা এলাকায় ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রথম দফার ওষুধ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ২০২৭ সালে। নয়াদিল্লিতে চলা ‘ইনোপ্রম ইন্ডিয়া’ ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান। একই সঙ্গে কালুগা অঞ্চলে ওষুধ তৈরির সক্রিয় উপাদান বা এপিআই উৎপাদনের কারখানাও গড়ে তোলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আলিখানভের দাবি, দুবনায় আগামী বছর থেকেই ওষুধ উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। অন্য দিকে কালুগার কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হতে পারে ২০২৮ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৯ সালে। এই প্রকল্পের দুই অংশীদার যথাক্রমে রাশিয়ার ফার্মাসিন্টেজ গ্রুপ এবং ভারতের বিডিআর ফার্মাসিটিক্যালস। প্রকল্পটিতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে প্রায় ৩০০ কোটি রুবল। আর এর প্রথম পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ২০ ধরনের ওষুধ উৎপাদনের পরিকল্পনা। পাশাপাশি ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সাইটোটক্সিক বা অ্যান্টি-টিউমার ওষুধের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানও তৈরি করা হবে।
মস্কো অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা অবশ্য একেবারেই নতুন নয়। গত ২০২২ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে দুবনায় ওষুধের কারখানা তৈরির জন্য চুক্তি হয়েছিল মস্কো প্রশাসন এবং ভারতের অ্যাডভান্সড গ্রুপের মধ্যে। চলতি বছরই প্রকল্পটির নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আনুমানিক ২৫০ কোটি রুবল বিনিয়োগের এই কারখানায় ক্যানসার, ব্যাকটেরিয়া ও যক্ষ্মার ওষুধের পাশাপাশি এইচআইভি, ডায়াবিটিস এবং হৃদ্রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি মস্কোর কাছেই টেকনোপলিস অঞ্চলে নতুন কারখানা তৈরি এবং ওষুধ শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে চুক্তি করেছে ভারতের হেটেরো ল্যাবসও।
ভারত-রাশিয়া যৌথ ওষুধ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এটিই প্রথম পদক্ষেপ নয়। রাশিয়ার বেলগোরদে ভারতীয় অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যক্ষ্মা ও এইচআইভির ওষুধ তৈরি হয়েছে। ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলেও ক্যানসারের ওষুধ উৎপাদনের কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। পরিসংখ্যানের বিচারে উৎপাদনের পরিমাণে ভারত বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম ওষুধ প্রস্তুতকারক দেশ এবং আর্থিক মূল্যের বিচারে রয়েছে একাদশ স্থানে। ফলে রাশিয়ার বাজারে ভারতীয় ওষুধ সংস্থার উপস্থিতি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থায় ভারতীয় প্রযুক্তি ও বিনিয়োগকে কাজে লাগানোর পথও খুলছে। মস্কো ও কালুগার নতুন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের ওষুধ শিল্পের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।