নিউজ ডেস্ক: কাজের বাজারে থাবা বসাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এ আই। এই নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে গিয়েছিলেন স্বয়ং স্টিফেন হকিং! সেই আশঙ্কা এবার সত্যি হতে চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে চাকরি ছেড়েছেন গুগল নিরাপত্তা গবেষক বিলাল চুঘতাই। প্রসঙ্গত, তিনি একা নন। এর আগেও একইরকম আশঙ্কা থেকে চাকরি ছাড়েন জশ এঙ্গেলস। তাঁরা দাবি করেছেন এই মুহূর্তে তাদের চাকরির ক্ষেত্রে উঠছে প্রশ্ন। এই ঘটনার নেপথ্যে আছে এ আই। প্রযুক্তি হোক বা বিজ্ঞাপন, পড়াশোনা থেকে শুরু করে ফ্যাশন দুনিয়া- সবেতেই এখন ব্যবহার করা হচ্ছে এ আই। ফলে মানবসম্পদ ব্যবহার কমছে। বড় বড় কোম্পানিগুলি শুরু করেছে ছাঁটাই। সম্প্রতি ওরাকল কোম্পানি তার কর্মীদের ছাটাই করেছে ঠিক এই কারণেই।
ইস্তফা দেওয়ার পর বিলাল তার সমাজ মাধ্যম X Handel থেকে একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন- ''আমি সম্প্রতি গুগল ডিপমাইন্ড থেকে ইস্তফা দিয়েছি। যেখানে আমি এজিআই-এর নিরাপত্তা ও অ্যালাইনমেন্ট বিষয়ক গবেষণা করতাম। গুগলে থাকাকালীন আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর উন্নয়নের প্রক্রিয়াটি খুব কাছ থেকে দেখেছি। এই প্রযুক্তির বর্তমান অগ্রগতির ধারা নিয়ে আমিও অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এআই-এর কারণে আমাদের সকলের বিলুপ্তির ঝুঁকি রয়েছে। এই পরিণতি এড়ানোর জন্য আমাদের হাতে হয়তো খুব কম সময় অবশিষ্ট আছে।'' বিলাল এর এই পোস্ট থেকেই বোঝা যায়, তিনি এআইয়ের কারণে কতটা মানসিকভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন। এছাড়াও কর্মসংস্কৃতির ক্ষেত্রে এ আই কী প্রভাব ফেলেছে এই পোস্ট থেকে তা স্পষ্ট হয়েছে।
দেখুন: https://x.com/bilalchughtai_/status/2099592489023734085
সাম্প্রতিক সময়ে এই একই কথা জানিয়েছেন জশ এঙ্গেলস। তিনি তার সমাজ মাধ্যমে লেখেন-"তিন সপ্তাহ আগে আমি গুগল ডিপমাইন্ডের এজিআই নিরাপত্তা টিম ছেড়েছি। আমার বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের কারও কারও কাছে এই সিদ্ধান্তটি অদ্ভুত মনে হয়েছিল। কারণ, ডিপমাইন্ডে আমি যে কাজ করতাম তা বেশ উপভোগ করতাম। তবুও চাকরিটা ছেড়েছি, কেননা আমার মতে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মাত্রা অনেকটাই বেশি।'' তাঁর মন্তব্যের ফলে যথেষ্টই আলোড়ন পড়েছেন নেট দুনিয়ায়। বিশেষত তরুন প্রজন্ম কিন্তু এ ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা শুরু করেছে। তবে আগামী দিনে এ আইয়ের ক্ষমতার কারণে কাজের বাজার যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমন একটা আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
দেখুন: https://x.com/JoshAEngels/status/2098890712830169115
অন্যদিকে এআই নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ধীরে ধীরে এই বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ব্যাপারে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। এ আই প্রযুক্তির উন্নতির নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি এই বিতর্ক উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি অবস্থান নেন এআই'র শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিদের বিপক্ষে। আসলে তিনি চান এ আই প্রযুক্তিতে আমেরিকা যেন চিনকে টেক্কা দেয়। তবে সে ক্ষেত্রে বাড়ছে বিশ্বজুড়ে আশঙ্কা। কাজ হারানোর আশঙ্কা। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অ্যানথ্রপিক'র শীর্ষকর্তা দারিও আমোদি একটি ব্লগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই উন্নয়ন প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরে করতে বলেছেন। তার এই আবেদনে সাড়া দেন ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান ও এক্সএআই প্রধান এলন মাস্ক। তাঁরা X Handel থেকে পোস্টের মাধ্যমে করে নিজেদের সমর্থন জানিয়েছেন।