নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের ময়দানে বহুবারই নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে ভারতীয় সেনার প্রশিক্ষিত সারমেয়রা। এ বার তাদের প্রশিক্ষণে যোগ হল আকাশপথে অভিযানের অধ্যায়ও। বর্তমানে বিমান থেকে প্যারাশুটের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে নামার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে সেনার কমব্যাট ডগদের। সম্প্রতি মধ্য ভারতের বেহাট ড্রপ জোনে এক সেনা প্যারাট্রুপার, এক ডগ হ্যান্ডলার এবং একটি প্রশিক্ষিত কমব্যাট ডগ পূর্ণ যুদ্ধসরঞ্জাম নিয়ে একসঙ্গে ট্যান্ডেম প্যারাশুট জাম্প করেন। সেনার দাবি, কোনও কুকুরকে নিয়ে এ ধরনের ট্যান্ডেম অবতরণের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। উল্লেখ্য, এর আগে সারমেয়কে সঙ্গে নিয়ে ফ্রি-ফল জাম্পের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল।
দেখুন: https://x.com/contentkikamii/status/2099837048295489671
তবে এই নজিরকে শুধু প্রশিক্ষণের অংশ হিসাবেই দেখছে না সেনা। এর মধ্যে রয়েছে মানুষ ও সারমেয়ের পারস্পরিক আস্থারও পরীক্ষা। সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ সৈনিক ও চারপেয়েদের অটুট বন্ধন, দলগত কাজ এবং যুদ্ধ প্রস্তুতির প্রতীক। বিশ্বের কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনীতেও সারমেয়দের আকাশপথে অভিযানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর আগে পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনকে খতম করার অভিযানেও কমব্যাট ডগ সঙ্গে রেখেছিলেন মার্কিন নেভি সিলের সদস্যরা।
ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থায় দশকের পর দশক ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রশিক্ষিত সারমেয়রা। পাহারা ও টহলদারি থেকে শুরু করে বিস্ফোরক ও মাইন শনাক্ত করা, সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা, ভিআইপি নিরাপত্তা, উদ্ধারকাজ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ব্যবহার করা হয়। কঠিন ও সরু জায়গায় মানুষের তুলনায় দ্রুত ঢুকতে পারা এবং ক্যামেরা বহন করে কৌশলগত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতার কারণে তাদের ‘ফোর্স মাল্টিপ্লায়ার’ হিসাবেও দেখা হয়। বহু সারমেয় সাহসিকতার জন্য সম্মানও পেয়েছে এর আগে। কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো সারমেয়দের পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় শেষ বিদায়ও জানানো হয়।
তবে যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে ঝুঁকিও কম নয়। প্রবল গরম, দীর্ঘ সময়ের শারীরিক পরিশ্রম, বিষাক্ত পরিবেশ এবং বিস্ফোরণ-গুলির শব্দের মধ্যে কাজ করতে হয় তাদের। ফলে হিট স্ট্রেস, ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট-সহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই ঝুঁকি কমাতে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর সরঞ্জাম তৈরির কাজও চলছে। তার মধ্যে রয়েছে হালকা ও মডিউলার বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং স্মার্ট কলার। স্মার্ট কলারের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, শ্বাসপ্রশ্বাস, হার্ট-রেট ভ্যারিয়েবিলিটি এবং ক্যালরি খরচ ইত্যাদি তথ্য নজরে রাখা যাবে। অন্য দিকে বুলেটপ্রুফ ভেস্ট শরীরের মূল অংশকে গুলি ও বিস্ফোরণের টুকরোর আঘাত থেকে সুরক্ষা দেবে। অর্থাৎ মাটির যুদ্ধের পাশাপাশি এ বার আকাশপথের অভিযানেও সেনার চারপেয়ে সঙ্গীদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।