কলকাতা: ফের কলকাতায় সক্রিয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। বুধবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মূলত Foreign Exchange Management Act, 1999 (FEMA)-এর আওতায় এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে McNally Bharat Engineering Company Limited (MBECL)-এর অধিগ্রহণ, সেই প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত অর্থের উৎস এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু প্রশ্ন।
ইডির তল্লাশি এমন কয়েকটি ব্যক্তি ও সংস্থার সঙ্গে যুক্ত premises-এ চলছে, যাঁদের নাম ম্যাকনালি ভারত অধিগ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তালিকায় রয়েছেন সঞ্জয় পাসারি, রাজীব পাসারি, রবি টোডি এবং সুধীর সাতনালিওয়ালা। পাশাপাশি BTL EPC Ltd., Mandaal Vyapaar Pvt. Ltd., Trolex (India) Pvt. Ltd., CEMFIL Enterprises Ltd. এবং Mahabaleswar Merchants Pvt. Ltd.-এর সঙ্গে যুক্ত ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
তদন্তকারীদের মূল নজর, ম্যাকনালি ভারত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ অধিগ্রহণের সময় ব্যবহৃত অর্থ কোথা থেকে এসেছিল এবং সেই অর্থ কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরানো হয়েছিল। বিশেষ করে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের ক্ষেত্রে FEMA-র বিধি মানা হয়েছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এই তদন্তের সঙ্গে সংস্থাটির দীর্ঘ insolvency resolution process-এর বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। প্রকাশ্য নথি অনুযায়ী, ম্যাকনালি ভারত ২০২২ সালে Corporate Insolvency Resolution Process বা CIRP-এর আওতায় যায় এবং পরবর্তী সময়ে NCLT একটি resolution plan অনুমোদন করে। ২০২৬ সালেও সংস্থাটিকে ঘিরে NCLT ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলেছে।
ইডি এখন খতিয়ে দেখছে, এই insolvency resolution process-এর সুযোগ নিয়ে এমন কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরোক্ষভাবে সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেছিল কি না, যাঁরা Insolvency and Bankruptcy Code-এর Section 29A অনুযায়ী সংস্থা অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন। এই বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়; তদন্তকারীরা নথি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে বিষয়টি যাচাই করছেন।
ম্যাকনালি ভারত ইতিমধ্যেই resolution plan-এর পরবর্তী পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সংস্থার প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে resolution plan-পরবর্তী পর্যায়ে তাদের শেয়ার ফের বাজারে লেনদেনের অনুমতি পেয়েছে।
ইডির তদন্তে তাই একদিকে যেমন FEMA-র সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে অধিগ্রহণের আর্থিক কাঠামো এবং insolvency process-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ বদলের গোটা প্রক্রিয়া। বিদেশি অর্থ, দেশীয় সংস্থা এবং একাধিক ব্যক্তির মধ্যে অর্থের গতিপথের কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, কলকাতার পূর্ব যাদবপুর এলাকাতেও রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতারির খবর সামনে এসেছে। তবে ওই ঘটনা এবং ম্যাকনালি ভারত সংক্রান্ত ইডির তদন্ত, দুটি পৃথক বিষয়।
ইডির তল্লাশি ও তদন্ত এখনও চলছে। অভিযানের শেষে কী ধরনের নথি বা আর্থিক তথ্য উদ্ধার হয় এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপে কারা জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন, এখন সেদিকেই নজর। তবে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা মানেই তা প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে সেই হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
