নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলে মতপার্থক্যের খবর ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের একাধিক বিষয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে প্রকাশ্যে আক্রমণ করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর মন্তব্য, “জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো” অর্থাৎ তাঁর মতে, জ্ঞানেশ কুমারের সময় শেষ হয়ে এসেছে। একইসঙ্গে ফের বিক্ষোভের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত প্রায় ১০ মাসে বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার লিখিতভাবে একাধিক আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং বাদ যাওয়া নাম পুনরায় যুক্ত করার মতো বিষয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। এই দাবি সামনে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই বিতর্কের মধ্যেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাজ করার সময় সদস্যদের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়। কোনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও মতবিনিময় হয়। শুধু কমিশনাররাই নন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরাও তাঁদের মতামত স্বাধীনভাবে জানাতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা বা মতপার্থক্য থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়। অর্থাৎ কোনও একটি বিষয়ে আলাদা মত থাকলেই সেটিকে কমিশনের কাজের অচলাবস্থা হিসেবে দেখা ঠিক নয়, এমনটাই তাদের বক্তব্য।
এর মধ্যেই অভিজিৎ দীপকের মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করেছে। তিনি জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করার পাশাপাশি এই ইস্যুতে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন নজর রয়েছে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিক্রিয়ার দিকে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধন ও SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের আবহে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক আলোচনার অংশ এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই নেওয়া হয়।
