নিউজ ডেস্ক: স্মার্টফোনের রমরমার যুগে আজও দেশে এমন কোটি কোটি গ্রাহক রয়েছেন, যাঁদের ইন্টারনেট বা ডেটার কোনও প্রয়োজনই পড়ে না। প্রবীণ নাগরিক কিংবা প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের বহু পরিবার এখনও সাধারণ ফিচার ফোন ব্যবহার করেন কেবল স্বজনদের সঙ্গে দুটো কথা বলার জন্য। অথচ প্রতি মাসে রিচার্জ করতে গিয়ে তাঁদের বাধ্য হয়ে ডেটা প্যাকের বাড়তি টাকা গুনতে হয়। কারণ, এয়ারটেল বা ভোডাফোন আইডিয়ার মতো বড় টেলিকম সংস্থাগুলির তালিকায় স্রেফ ভয়েস কল ও এসএমএসের রিচার্জ বিকল্প নেই বললেই চলে। এবার সাধারণ গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই অন্যায্য আর্থিক বোঝা বন্ধ করতে সরাসরি ময়দানে নামল ভারতবর্ষের টেলিকম নিয়ামক সংস্থা 'ট্রাই'।
সম্প্রতি টেলিকম কনজিউমার প্রোটেকশন রেগুলেশনসের ত্রয়োদশ সংশোধনীর আওতায় কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে ট্রাই। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে,ডেটা ছাড়া শুধুমাত্র ভয়েস কল এবং এসএমএসের জন্য আলাদা রিচার্জ প্যাক বাধ্যতামূলকভাবে চালু করতে হবে প্রতিটি সংস্থাকে। নিয়ামক সংস্থার যুক্তি স্পষ্ট, যে গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহারই করেন না, তাঁর ওপর ডেটার খরচ চাপিয়ে দেওয়া একেবারেই অযৌক্তিক। প্যাক থেকে ইন্টারনেটের খরচ বাদ পড়লে রিচার্জের দাম অনেকটাই কমে আসবে, যা সরাসরি স্বস্তি দেবে খেটে খাওয়া দিনমজুর ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে।
শুধু আলাদা প্যাক আনাই নয়, রিচার্জের মেয়াদ বা ভ্যালিডিটি নিয়েও টেলিকম সংস্থাগুলির কৌশলে রাশ টানতে সক্রিয় হয়েছে ট্রাই। বর্তমানে হাতে গোনা যে ক’টি শুধুমাত্র কথার প্ল্যান বাজারে রয়েছে, সেগুলির মেয়াদ সাধারণত অনেক বেশি দিনের হয়। ফলে একবারে অনেকটা টাকা খরচ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। সেই জটিলতা দূর করতে ট্রাই নির্দেশ দিয়েছে, স্বল্প মেয়াদের কম খরচের ভয়েস প্যাকের পাশাপাশি প্রতিটি সংস্থাকে অন্তত একটি এমন প্ল্যান রাখতে হবে, যার মেয়াদ হবে ৩০ দিনের বেশি।
উল্লেখ্য, টেলিকম কোম্পানিগুলির তথাকথিত '২৮ দিনের হিসেব' নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষোভ বহুদিনের। ২৮ দিনের চক্করে বছর ঘুরতেই গ্রাহকদের কার্যত ১৩ বার রিচার্জ করাতে হয়। এই বিভ্রান্তিকর নিয়মের বিরুদ্ধে কিছুদিন আগেই সংসদে সরব হয়েছিলেন সাংসদ রাঘব চাড্ডা। তাঁর দাবি ছিল, রিচার্জের মেয়াদ সরাসরি ক্যালেন্ডার মাস অনুযায়ী ৩০ বা ৩১ দিন করা হোক। ট্রাই অবশ্য ক্যালেন্ডার মাসের সেই পুরনো বিতর্ক পুরোপুরি না মেটালেও, অপ্রয়োজনীয় ডেটা ছাঁটাই করে সস্তায় ভয়েস কলের প্যাক আনার যে নির্দেশ দিয়েছে, তাতে দেশের কোটি কোটি সাধারণ ও বয়স্ক গ্রাহক এক বড় আর্থিক স্বস্তি পেতে চলেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।