উত্তর সিকিম, নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ি এখনও পর্যটন মরশুমের পুরোপুরি শুরু হয়নি। তার আগেই প্রকৃতি যেন নিজের নিয়মে জানান দিল শীতের আসন্ন। টানা বৃষ্টির মধ্যে আচমকাই বদলে গেল উত্তর সিকিমের একাধিক এলাকার দৃশ্যপট। পাহাড়ের বুক জুড়ে দেখা গেল সাদা চাদরের মতো আবরণ। ফলে, মরশুম শুরুর আগেই পর্যটকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ।
শুক্রবার বছরের প্রথম তুষারপাতের সাক্ষী হল উত্তর সিকিমের মুগুনথান এবং কালাপাহাড় সংলগ্ন এলাকা। তুষারে ঢেকে যায় বিস্তীর্ণ পাহাড়ি অঞ্চল। অল্প সময়ের মধ্যেই সাদা হয়ে ওঠে চারপাশ। পাহাড়ের এই নতুন রূপ পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হয়েছে। তবে, কালাপাহাড় যা দশজন পর্যটকের জন্য শেষ স্টপ, তার উপরে কাউকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আর প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক এই স্থানে আসেন।
সাধারণত প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পার্বত্য অঞ্চলে মৌসুম শুরু হয়। পুজোর মরশুমেকে সামনে রেখে উত্তর সিকিমেও পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে। আর তার আগেই এই এলাকায় তুষারপাত শুরু হয়েছে যার ফলে পর্যটকের ভিড় বাড়বে। বরফের টানে আগামী দিনে পর্যটকদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে, একদিকে তুষারপাত যেমন পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াচ্ছে অন্যদিকে, আবহাওয়ার পরিবর্তনে তৈরি হয়েছে নানা সমস্যা। গত দুদিন ধরে গোটা সিকিমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। তার জেরে পাহাড়ি রাস্তায় আরও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
পশ্চিম সিকিমের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির জেরে ধসের ঘটনাও ঘটেছে। কোথাও কোথাও পাহাড়ি মাটি নেমে এসে সড়ক অবরুদ্ধ করেছে। ফলে, এক দিকে উত্তর সিকিমে তুষারপাতের সৌন্দর্য অন্যদিকে, পশ্চিম সিকিমে ধস ও রাস্তা বন্ধ, এই দুই বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে পাহাড় জুড়ে। পর্যটন মরশুম শুরুর আগেই তুষারপাত হওয়ায় উত্তর সিকিম এর ছবি এখন পর্যটনদের আকর্ষণের কেন্দ্রে। তবে, পাহাড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে।
তবে মরশুমের শুরুর আগেই বরফের দেখা মেলায় পর্যটকদের মধ্যেও বাড়তি উৎসাহ দেখা দিয়েছে। তবে আনন্দের মাঝে কিছুটা হলেও ভয়ে রয়েছে সকলের মধ্যে। কারণ মাঝের মধ্যেই ভূমিধস যা চিন্তা ধরাচ্ছে সকলকে। তবে বরফে ঢাকা সিকিমের অপরূপ দেখে মুগ্ধ নেট দুনিয়া।