নয়া দিল্লি, নিউজ ডেস্ক: একদিকে নির্বাচন কমিশনের অন্দরের মতপার্থক্য নিয়ে চর্চা অন্যদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক চাপা উত্তেচনা। এই আবহে এই বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্ফোরক একাধিক দাবি জানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ফের তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত বলে দাবি করেন তিনি। রাহুলের বক্তব্যে উঠে আসে তাঁর দীর্ঘদিনের ভোট চুরি অভিযোগও। তিনি দাবি করেন ২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক একাধিক বিধানসভা নির্বাচনেও কারচুপি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে ভোটে অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচিত সাংসদদের তৈরি করা আইন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি বিষয়টিকে ভোট চুরি হিসেবে বর্ণনা করেন।
জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে রাহুল আরও বলেন, তাঁর উচিত পদ থেকে সরে এসে রাজসাক্ষী হওয়া। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের অন্দরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির খবরও সামনে এসেছে। এই প্রসঙ্গে কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে, প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও নিশানা করেন কংগ্রেস নেতা। রাহুলের অভিযোগ, নির্বাচন সংক্রান্ত অনিয়মের পিছনে তাঁদের ভূমিকা রয়েছে। তবে, এই অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণ হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্দরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে মতপার্থক্য নিয়ে খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠকের পর জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করলো কংগ্রেস। একইসঙ্গে, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন মাত্রা পেল।