সেবাশ্রয়কে ঘিরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তৃণমূলের যুবরাজের। আবারো অভিষেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পৈলানের একটি রিসর্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবির আয়োজনের নামে ৪০ দিন তাদের রিসোর্ট আটকে রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয় চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকা-খাওয়া এবং যাতায়াতের সমস্ত খরচও বহন করতে বাধ্য করা হয় রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে বলে অভিযোগ করে ওই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক সুমিত রায় এবং বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রিসোর্টের প্রতিনিধি সমীরণ রায় বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে আয়োজিত সেবাশ্রয় ও সেবাশ্রয়-২ কর্মসূচির জন্য তাঁদের রিসর্ট প্রায় ৪০ দিনের জন্য সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করা হয়। এতে পর্যটনের মরসুমে তাঁরা রিসর্ট ভাড়া দিতে পারেননি এবং প্রায় ২০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তাদের অসুবিধার কথা কোনোভাবেই চিন্তা করে দেখা হয়নি।
শুধু তাই নয় প্রতিদিন ১১০ থেকে ১২০ জন চিকিৎসক ও কর্মীর থাকার ব্যবস্থা করতে বাধ্য করা হয় রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি স্থানীয় শিবির পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত অর্থও আদায় করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। কথার অমান্য হলে রিসোর্ট ভাঙচুর ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার হুমকির সম্মুখীন হতে হয় তাদের। ইতিমধ্যেই রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তোলাবাজি এবং দুর্নীতিদমন আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের তৃণমূল সরকার থাকাকালীন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ গরিব ও অসহায় মানুষদের কথা চিন্তা করে সেবাশ্রয় প্রকল্প চালু করেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক অভিযোগ আছে এই সেবাশ্রয়কে ঘিরে। বিজেপি সরকারের আমলে সেবাশ্রয়কে ঘিরে একাধিক এফআইআর হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে দাবি করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন করে আরো একটি অভিযোগ সেবাশ্রয়কে ঘিরে হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।