চিকিৎসক তৈরিতে বড়সড় পদক্ষেপের পথে পশ্চিমবঙ্গ। সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ মিলিয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই রাজ্যে প্রায় ১,০০০টি নতুন এমবিবিএস আসন যুক্ত হতে পারে বলে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর। নতুন মেডিক্যাল কলেজ গঠন, পুরনো কলেজে আসন বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো সম্প্রসারণ— এই তিন পথেই চিকিৎসা শিক্ষার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ৩৫০টি এবং বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে ৫০০টি নতুন এমবিবিএস আসন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া এগিয়েছে। পাশাপাশি বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ-সহ আরও তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ৫০টি করে আসন বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে আসন বৃদ্ধির সংখ্যা এক হাজারে পৌঁছতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের আশা।
শুধু আসন বৃদ্ধি নয়, যে চারটি জেলায় এখনও সরকারি মেডিক্যাল কলেজ নেই— আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং, পশ্চিম বর্ধমান এবং দক্ষিণ দিনাজপুর— সেখানে নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ গড়ার পরিকল্পনাও এগোচ্ছে। এই কলেজগুলি চালু হলে আরও প্রায় ৪০০টি এমবিবিএস আসন যুক্ত হবে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে রাজ্যে মোট এমবিবিএস আসনের সংখ্যা ৮,৫০০-এর কাছাকাছি পৌঁছতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যদপ্তরের একাংশের দাবি, উত্তরবঙ্গে এইমস নির্মাণের সিদ্ধান্ত এবং একাধিক নতুন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ চালু হলে চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে নতুন সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ন্যূনতম ১৫০টি আসন নিয়ে পাঠক্রম শুরু করার ভাবনাও রয়েছে। এর ফলে আগামী কয়েক বছরে রাজ্য থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন চিকিৎসক বেরিয়ে আসবেন।
তবে এই আশাবাদের পাশাপাশি উঠছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও। এত বিপুল সংখ্যক নতুন চিকিৎসক তৈরি হলে তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত ইন্টার্নশিপ, উচ্চশিক্ষা এবং সরকারি বা বেসরকারি চাকরির সুযোগ তৈরি হবে কি? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আসন বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং নতুন পদ সৃষ্টি না হলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
তবু চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার এবং ভবিষ্যতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই রাজ্যের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।