গোটা বিশ্ব এখন ডুবে রয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের লড়াই। সেই আবহেই যেন অনেকটা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের একের পর এক ব্যর্থতা। গুরু গম্ভীর আর তাঁর সহযোগীদের জন্য সেটাই হয়তো আপাত স্বস্তির। বৃহস্পতিবার ব্রিস্টলে ৯ উইকেটে হেরে আয়ারল্যান্ডের পর এ বার ইংরেজদের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খোয়ালেন শ্রেয়স আইয়ারেরা। তবে তার থেকেও বড় কথা, গত মার্চে বিশ্বকাপ জেতা ভারত এই নিয়ে টানা ৫টি টি-টোয়েন্টি হেরে নজিরবিহীন সংকটে। এই ভয়াবহ পারফরম্যান্স যদি অন্য সময়ে হত, তা হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় যে আরও অনেক বেশি তীব্র হত, তা বলাই বাহুল্য।
বিপদের ঘণ্টা বেজেছিল আয়ারল্যান্ড সফরেই। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বে প্রথমবার আইরিশদের কাছে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারে মেন ইন ব্লু। অনেকেই ভেবেছিলেন, সেটি সাময়িক ধাক্কা। কিন্তু ইংল্যান্ড সফরে সেই আশাও ভেঙে চুরমার। তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে একটিও ম্যাচ জিততে পারেনি ভারত। বৃষ্টিতে একটি ম্যাচ ভেস্তে না গেলে ব্যবধান আরও লজ্জাজনক হতে পারত। ফলে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুই হার এবং ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টানা তিন হার— বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের পরপর পাঁচ ম্যাচে পরাজয়ের হতাশাজনক ছবি সামনে এসেছে।
সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ভারতের অসহায় আত্মসমর্পণ যেন পুরো সফরের প্রতিচ্ছবি। প্রথমে ব্যাট করে কোনও ক্রমে ১৫৮ রান তোলে ভারত। এর মধ্যে অধিনায়ক শ্রেয়স একাই করেন ৮০। বাকিরা টি-২০ নয়, যেন টেস্ট ক্রিকেট খেলছিলেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান শিবম দুবের। জবাবে ফিল সল্ট ও হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ১৩.৫ ওভারেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ইংল্যান্ড। ৯ উইকেটে, ৩৭ বল বাকি থাকতে হারে ভারত। টি-২০ ক্রিকেটে বল বাকি থাকার নিরিখে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের সবচেয়ে বড় পরাজয় এটি।
এত বড় ধাক্কার পরও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দল বদলের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তাই ভুল হবেই। সেই ভুল থেকে দ্রুত শিক্ষা নেওয়ার উপরই জোর দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, একই ভুল যদি বারবার ফিরে আসে, তা হলে শেখার প্রক্রিয়া কোথায়? অধিনায়ক হওয়ার পর ছয় ম্যাচে এখনও জয়ের মুখ দেখেননি শ্রেয়স। ব্যাটিংয়ের ধার নেই, বোলিংয়ে পরিকল্পনার অভাব, ফিল্ডিংয়েও একের পর এক ভুল, সব মিলিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের পারফরম্যান্স এখন সত্যিই উদ্বেগজনক।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য মাঠের বাইরের। বিশ্বকাপজয়ী দল কয়েক মাসের মধ্যেই কীভাবে এতটা ছন্দ হারাল? আয়ারল্যান্ডের মতো দলের কাছে সিরিজ হার। তার পর ইংল্যান্ডের কাছে একতরফা আত্মসমর্পণ। তবু এই ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনাও তুলনামূলক কম। কারণ, ফুটবল বিশ্বকাপের আবেগে ক্রিকেট আপাতত অনেকটাই আড়ালে। গুরু গম্ভীর এবং তাঁর টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো সেই কারণেই কিছুটা সময় পাচ্ছে। কিন্তু ফুটবলের উৎসব শেষ হলেই আলো ঘুরে আসবে ক্রিকেটের দিকে। তখন আর অজুহাত নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের কাছ থেকে ফলই চাইবে ক্রিকেটপ্রেমী ভারত। নয়তো জবাব দাও।